- প্রচ্ছদ রচনা স | হ | জ | পা | ঠ
- জুলাই ১৪, ২০২৫
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে আজই পৃথিবীর পথে শুক্লার দল, কাল প্রশান্তে অবতরণ
নাসা ও অ্যাক্সিয়ম স্পেসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় আঠারো দিন কাটিয়ে আজই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীর পথে রওনা হচ্ছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শোভাংশু শুক্লা ও তাঁর দলের অন্যান্য মহাকাশচারীরা। ভারতীয় বায়ুসেনার অভিজ্ঞ অফিসারিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশ স্টেশনে গিয়েছেন। সোমবার ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁরা ড্রাগন গ্রেস মহাকাশযানে করে আইএসএস থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন। যদি সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোয়, তা হলে মঙ্গলবার বিকেল ৩ টে নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে তাঁদের যানের অবতরণ হওয়ার কথা।
ড্রাগন গ্রেস-এ শুভাংশু শুল্কার সঙ্গী আরো ৩ মহাকাশচারী— আমেরিকার মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে অন্যতম অভিজ্ঞ কমান্ডার পেগি হুইটসন, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার পোলিশ মহাকাশচারী স্লাভোস উজনানস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু। ২৫ জুন, আন্তর্জাতিক দলটিকে নিয়ে অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের সূচনা হয়েছিল স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে করে। কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করে তাঁরা ২৬ জুন বিকেলে মহাকাশ স্টেশনের ‘হারমনি’ মডিউলে সফল ভাবে ‘ডক’ করেছিলেন। নাসা জানিয়েছে, আজ দুপুর ২টো নাগাদ শুরু হবে মহাকাশযান ফেরত প্রস্তুতির প্রক্রিয়া। এরপর দুপুর ২টো ২৫-এ তাঁরা প্রবেশ করবেন ড্রাগনে। বিকেল ৪টে পনেরো নাগাদ ‘মহাকাশনগর’ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে এবং ঠিক সাড়ে ৪টেয় আইএসএস থেকে ড্রাগন গ্রেস আলাদা হয়ে যাবে। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই সংযোগ ছিন্ন হবে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়ানো মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে। পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচার করবে নাসা প্লাস, স্প্ল্যাশডাউন পর্যন্ত লাইভ দেখা যাবে অ্যাক্সিয়ম ও স্পেসএক্স-এর ওয়েবসাইটেও।
এতদিন আইএসএস-এ কাটিয়ে ফেরা শোভাংশু শুক্লার কাছে নিঃসন্দেহে এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোববারই মহাকাশ থেকে শেষ বার ভারতবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। উদ্ধৃত করেছেন সেই বিখ্যাত উক্তি, যেটি আজো বহু ভারতীয়ের মনে গেঁথে আছে— ‘সারে জাহাঁ সে আচ্ছা, হিন্দুস্তান হামারা।’ তবে এ প্রজন্মের প্রতিধ্বনি হিসেবে তিনি বলছেন, ‘আজকের ভারত মহাকাশ থেকে দেখলে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী, সাহসী, গর্বিত এবং মহাত্বাকাঙ্ক্ষী মনে হয়। তাই আজো বলি, আজকের ভারত এখনো সারা জাহাঁ থেকে উন্নত দেখায়।’ পাশাপাশি শুক্লা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইসরো, নাসা, অ্যাক্সিয়ম আর স্পেসএক্স-এর সমস্ত বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও সহকর্মীদের। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমেই ঐতিহাসিক এ যাত্রা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভাংশু বলেছেন, পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে একত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেবল তাঁর পেশাগত দিক থেকেই নয়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গভীরতর প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে, অ্যাক্সিয়ম জানিয়েছে, এই অভিযানে ৬০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মহাকাশযানে করে ফিরছে প্রায় ৫৮০ পাউন্ড ওজনের গবেষণার নমুনা ও যন্ত্রপাতি। এই তথ্য ভবিষ্যতের বহু গবেষণায় মূল্যবান হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। শুধু বিজ্ঞান নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে অ্যাক্সিয়ম-৪। রাষ্ট্রীয় সীমারেখা ছাপিয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার হাত ধরে মানুষ কীভাবে এক হতে পারে, সেই বার্তাই নিয়ে এলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লা ও তাঁর দলের মহাশূন্য অভিযান। আর ভারত? এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল দেশের মহাকাশ ইতিহাস। আর একটি নাম আজ থেকে চিরকালীন অক্ষরে খোদাই হয়ে রইল— শোভাংশু শুক্লা।
❤ Support Us







