- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
‘এসআইআর’- প্রক্রিয়ার শুনানিতে জটিলতা, হস্তক্ষেপ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে ‘বাংলা একতা মঞ্চ’
ভোটমুখী বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য জুড়ে বিভ্রান্তি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, অবিলম্বে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে, এমন দাবি তুলে সরব ‘বাংলা একতা মঞ্চ’। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে গিয়ে ডেপুটেশন দেন সংগঠনের প্রতিনিধি দল। তাঁদের অভিযোগ, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে গিয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব দেখা যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষত প্রান্তিক ও পিছিয়ে থাকা শ্রেণির নাগরিকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
প্রতিবাদী দলে ছিলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত, সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্রকর্মী অভিষেক রায়, লেখক-প্রকাশক মারুফ হোসেন এবং সমাজকর্মী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, তন্ময় ঘোষ প্রমুখ । কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দাবি করেন, ‘এসআইআর’ পদ্ধতি যেন আরো সংবেদনশীল ও মানবিক করা হয়। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপমান বা সন্দেহের চোখে দেখা না হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বিশেষ ভাবে যে বিষয়টি তুলে ধরা হয়, তা হলো শুনানিতে ডাকা ভোটারদের কাছ থেকে নথি জমা নেওয়া সত্ত্বেও কোনো ‘রিসিভড কপি’ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের প্রশ্ন, ভবিষ্যতে যদি কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে তিনি কী ভাবে প্রমাণ করবেন যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি জমা দিয়েছিলেন? সংগঠনের দাবি, এহেন অনিশ্চয়তা নাগরিকত্বের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
বৈঠকের পরে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলার প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে এসআইআর নিয়ে তীব্র ভয় কাজ করছে। বিশেষ করে যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগছে—তাঁরা কি ভোটাধিকার হারাতে চলেছেন?’ তাঁর অভিযোগ, শুধু সাধারণ মানুষই নন, রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন থেকে শুরু করে অভিনেতা দেব, ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ সামি, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বসু ও তাঁর পরিবার তালিকা দীর্ঘ। পরমব্রতের বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্মাননীয় মানুষদের সম্মান বজায় রেখে বিষয়টি দেখা।’ ‘বাংলা একতা মঞ্চ’-এর তরফে জোড়ালোভাবে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের বিশেষ অসুবিধার কথাও কমিশনের কাছে বলা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র, প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের হয়রানির একাধিক উদাহরণ তুলে ধরা হয় ডেপুটেশনে।
উল্লেখ্য, বৈধ-অবৈধ ভোটার, স্বচ্ছতা ইত্যাদি বিষয়কে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন পদ্ধতি চালু হলেও, শুরু থেকেই বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। অতিরিক্ত কাজের চাপে বহু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, মারা গিয়েছেন বলে অভিযোগ। আবার শুনানির নোটিস পেয়ে আতঙ্কে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১১,৪৭২ জন ভোটারের নাম এবং শুনানিতে ডাকা হয়েছে প্রায় ৯ লক্ষ ৩১ হাজার ভোটারকে। এমনকি, এ প্রক্রিয়া চলাকালীন কয়েক হাজার মানুষ বাংলাদেশে পাড়ি দিয়েছেন বলেও দাবি উঠেছে। যদিও এমন তথ্যের স্বীকৃতি মেলেনি নির্বাচন কমিশনের তরফে। এ নিয়ে ‘বাংলা একতা মঞ্চ’র বক্তব্য, মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ যদি শেষ পর্যন্ত মানুষেরই ক্ষতি ডেকে আনে, তা হলে সে প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। পরমব্রত জানান, ‘আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি চেষ্টা করছি। কতটা সফল হব, তা সময় বলবে। কিন্তু মানুষের যে হয়রানি হচ্ছে, সেই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিবেচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
❤ Support Us







