Advertisement
  • দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • মার্চ ২৬, ২০২৬

কাটোয়া বইমেলায় ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কাটোয়া বইমেলায় ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

জ্বলল মশাল। বাজল দ্রিমি দ্রিমি ধামসা-মাদল। মিললেন বেবাক ভাষাপ্রেমী। মশালের কাঁপা আলোয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হল গুচ্ছ গুচ্ছ হাত। শপথ ঘোষিত হল, বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসারে জানকবুলের। আর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হল বাংলাদেশ ও আসামের ভাষা শহিদদের। গতরাতে এভাবেই ইতি পড়ল ৩৪তম কাটোয়া বইমেলার। নাড়া বাঁধা হল ৩৫তম মেলার। বেসরকারি উদ্যোগে একটা মফসসল শহরে ৩৪ বছর বইমেলার আয়োজন বড় কম কথা নয়। সবথেকে যা নজর টানে, তা হল এই বইমেলার অভিমুখ।

শুরুর দিকে এই মেলার উদ্বোধন করতেন কোনও নবসাক্ষর। পরবর্তিতে উদ্বোধক-বলয় কবি-সাহিত্যিক-প্রাবন্ধিকদের বন্ধনীতে বাঁধা পড়ে। এই উজান-মনা আবহটাই জড়ানো বইমেলার সপ্তাহজুড়ে। আলোচনায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের বিষয়টি কাটোয়া বইমেলার বরাবরের অগ্রাধিকার। অনুষ্ঠান মঞ্চ বাঁধা হয় লোকগান ও লোকবাদ্যের সুরে-স্বরে।

যেমন এবারের মেলায় শৈশব ও কৈশোরের প্রতিভার স্ফূরণের বিষয়টি ছিল গুরুত্বের তালিকায়। মহকুমার ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল ক্যুইজ প্রতিযোগিতার। প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রথম তিনটি গ্রুপকে পুরস্কৃত করা হয় সুকান্ত ভট্টাচার্য নামাঙ্কিত মেলার মূল সাংস্কৃতিক মঞ্চে। ৫৪ জন ক্রেতাকে ক্রেতা সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হল। মেলার প্রবেশ তোরণটি করা হয়েছিল বাংলা সংবাদপত্রের জনক গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যর নামে।

কাটোয়া বইমেলার সর্বাধিক গুরুত্বের বিষয়টি হল বিকিকিনি। ফলে চলতি হাওয়ার ‘পন্থী’দের সঙ্গে এক পঙক্তিতেই ফি-বছর হাজির হন সিরিয়াস বইয়ের প্রকাশকরাও। মেলা শেষে তাঁদের বইয়ের বোঝাও হালকা হওয়ায় খুশির রেখা ঝলমল করে তাঁদের শরীরজুড়ে। অনেকেই পরের বছরের জন্য বায়না ধরিয়ে দেন মেলা-উদ্যোক্তাদের। কাটোয়া বইমেলা কমিটির নিজস্ব একটি ত্রিতল ভবন রয়েছে। নাম ‘ভাষাসদন’। কমিটির নিজস্ব প্রকাশনা রয়েছে। কাটোয়ার ইতিহাস ও সংস্কৃতি-সহ বেশকিছু গদ্য-পদ্য-প্রবন্ধ গ্রন্থ আত্মপ্রকাশ করেছে, যেগুলির অধিকাংশের প্রথম সংস্করণ নিঃশেষিত। এই কমিটি বৎসরান্তিক বইমেলার আয়োজনের পাশাপাশি বছরভর নানান সংস্কৃত-কর্মসূচির সুচারু পরিবেশন করে। কমিটির সদস্য তালিকাতে মহকুমার সারস্বত সমাজের হুজ হু-দের ছড়াছড়ি। মেলা কমিটির তরফে তুষার পণ্ডিত, শ্রীমন্ত মজুমদাররা জানালেন, ‘এবার মেলার মাঝে ২ দিন বৃষ্টি হয়। কিন্তু বইপ্রেমী জনতার আবেগের কাছে হার মেনেছে প্রকৃতির ভ্রুকুটি।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!