- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩, ২০২৬
নিজের বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি মেডিক্যাল হাসপাতালে
সামশেরগঞ্জে নিজের বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ ধুলিয়ানের ডাকবাংলো এলাকার তাঁর বাড়ি থেকে আচমকা ঘন কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির একাধিক ঘরে। সে সময় বাড়ির ভিতরেই ছিলেন বায়রন। আগুনের মধ্যে পড়ে অগ্নিদগ্ধ হন তিনি। প্রথমে তাঁকে ধুলিয়ানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে তাঁকে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সকাল থেকেই বায়রনের বাড়ির দিক থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। বাড়ির ভিতর থেকে আর্তনাদের শব্দও শুনতে পান স্থানীয়েরা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। আগুন লাগার সময় বাড়িতেই ছিলেন বায়রন। ঘরের ভিতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। পরে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হাসপাতাল সূত্রে তাঁকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বায়রনের বাড়ির পাশেই রয়েছে তাঁদের বিড়ির কারখানা। ফলে আগুনের সূত্রপাত বাড়ি থেকে, না কি সংলগ্ন কারখানা থেকে — তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আগুন লাগার সময় বাড়িতে আর কে কে ছিলেন, কী ভাবে আগুন ছড়াল এবং ঠিক কোন জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত—এই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, বাড়িটি উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে সহজে সেখানে ঢোকা যায় না। ফলে বাড়ির ভিতরেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত করছেন আধিকারিকেরা। ঘটনাস্থলে দমকলের কর্মীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। বাড়ির দোতলার একাধিক ঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বায়রনের বাড়ির সামনে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের আধিকারিকেরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। ধুলিয়ান পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পারভেজ আলম বলেন, বায়রনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বায়রনের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বায়রনকে আমি খুব স্নেহ করি। ও খুব ভাল মনের ছেলে। আমি খুবই চিন্তিত। প্রয়োজনে আমি যাব। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ও সুস্থ হয়ে উঠুক। কোনো বিপদ যেন ওর না হয়।’
বায়রনের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও টেনে আনেন অধীর। তিনি বলেন, সাগরদিঘির উপনির্বাচনে বায়রনকে কংগ্রেসের প্রার্থী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। পরে বায়রন দল বদল করলেও তাঁর প্রতি কোনও রাগ ছিল না বলেও জানান অধীর। তাঁর কথায়, ‘হয়তো অভিমান করেছি, কোনো রাগ হয়নি। কারণ, ও খুব ভাল মনের ছেলে।’ বায়রনের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিধায়কের খোঁজ নেব। ওঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ রাজনৈতিক ভাবে গত কয়েক বছরে একাধিক বার দলবদলের সঙ্গে জড়িয়েছে বায়রনের নাম। সাগরদিঘির উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হওয়ার পর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকেই সাগরদিঘি থেকে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। পরে রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের প্রেক্ষাপটে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।
তবে শনিবারের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কারণের যোগ রয়েছে কি না, এমন কোনো তথ্য সামনে আসেনি। আপাতত আগুন লাগার কারণ, কী ভাবে বায়রন অগ্নিদগ্ধ হলেন, আপ্তত এ দুই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ। বাড়ি ও সংলগ্ন বিড়ির কারখানার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পরও বাড়ির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে দেখছেন। ফরেন্সিক বা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ দলের সাহায্য নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশাসনের তরফে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বায়রনকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিধায়কের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। অন্য দিকে, সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে। তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ, সংলগ্ন বিড়ির কারখানা নাকি অন্য কোনও কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
❤ Support Us







