- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৮, ২০২৬
বেঙ্গালুরুতে ‘সিজেপি’-র প্রতিবাদ সভা : জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা, ‘এসআইআর’ বাতিলের দাবি প্রকাশ রাজ, ধ্রুব রাঠী, অভিজিৎ দীপকের
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ ঘিরে বিতর্কের আঁচ দিল্লি, মুম্বাই ছাপিয়ে এবার পৌঁছল কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতেও। বৃহস্পতিবার ফ্রিডম পার্কে ‘এসআইআর’ বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামলেন কয়েকশো মানুষ। প্রতিবাদে যোগ দিলেন অভিনেতা-সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষ এবং ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’ (সিআইপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ অনান্য নেতাকর্মীরা। কর্মদিবস হওয়া সত্ত্বেও মহিলা, পড়ুয়া, পরিবার-সহ বহু সাধারণ নাগরিক ও কর্মরত পেশাজীবীদেরও উপস্থিতি দেখা গেছে প্রতিবাদস্থলে।
‘এসআইআর’-এর জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে — এমন অভিযোগ যাঁদের, তাঁদের বক্তব্য শোনার জন্য এ দিনের কর্মসূচিকে ‘জনতার আদালত’ বা ‘জনতার বিচারসভা’র আদলে সাজিয়েছিল আয়োজকেরা। কর্নাটকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন অভিযোগ নিয়ে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি, মহিলাদের সংহতিতে পরবর্তী পর্যায়ে ‘চপ্পল প্রতিবাদ’-এরও ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্রিডম পার্কের প্রতিবাদস্থলে সকাল থেকেই নানা পোস্টার হাতে জড়ো হতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। কোথাও লেখা, ‘এরর ৪০৪ — নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’। কোথাও আবার — ‘ইটস ডান ব্রো, রিজ়াইন স্যার’। আরও একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আমাদের মুছে ফেলবেন না, আমাদের কথা শুনুন’। ‘একনায়কতন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না’, ‘ভোট চুরি’ এবং ‘জ্ঞানেশ কুমার, গদি ছেড়ে দিন’— এমন স্লোগানও দেখা যায় পোস্টারে। এছাড়াও সংবিধান, ভগৎ সিং এও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি-সহ পোস্টারও দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
প্রকাশ রাজের বক্তব্যে ‘এসআরআই’-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু ভোটার তালিকা থেকে কিছু মানুষের নাম বাদ পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে নাগরিকের মর্যাদা আর ভোটাধিকার জড়িয়ে রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়ার অধিকার ওঁদের কে দিয়েছে? এটা অত্যন্ত গুরুতর অন্যায়।’ এর পরেই তাঁর কণ্ঠেও ওঠে, ‘ভোট চোর, গদি চোর’ স্লোগান। তবে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগকে আন্দোলনের একমাত্র লক্ষ্য হিসাবে দেখতে নারাজ প্রকাশ। তাঁর মতে, ‘আমাদের লড়াই শুধু জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য নয়। উনি চলে গেলে তাঁর জায়গায় অন্য কোনো ‘অজ্ঞানেশ কুমার’ আসতে পারেন। আমরা সেটা চাই না। আমরা চাই, গোটা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াটিই বাতিল হোক।’ ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন প্রকাশ। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘নির্দেশে’ কাজ করছেন।
অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠীর উপস্থিতি ঘিরেও যথেষ্ট আগ্রহ ছিল প্রতিবাদস্থলে। ‘এসআইআর’-এর বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব ধ্রুব কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শাসক পরিবর্তনের জন্য এখানে আসিনি।’ তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের পরিবর্তনের দাবির সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতা থেকে দূরত্ব রাখার বার্তা দেওয়া হয়। প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন বাম ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষও। ‘সিজেপি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলার আহ্বান জানান। তাঁর নেতৃত্বে ‘নরেন্দ্র মোদী ভোট চোর’ স্লোগানও ওঠে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ‘এসআইআর’ বাতিলের দাবিতে সংগঠনের প্রচারাভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান আয়োজকেরা।
প্রতিবাদে মঞ্চে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার একাধিক অভিযোগও সামনে আসে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সদস্য শাকিল বাশার দাবি করেন, ‘এসআইআর’-এর সময় তিনি ভোটকর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সে সময় সংখ্যালঘু ও দলিত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা তাঁর নজরে এসেছে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি তোলেন তিনি। আয়োজকদের দাবি, কর্নাটকের বিভিন্ন প্রান্তে এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম না থাকার কথা জানতে পেরেছেন। তাঁদের অভিযোগ শোনার জন্যই ‘জনতার আদালত’-এর আয়োজন। ‘সিজেপি’-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা জানান, ভুল ভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে বলে যাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে সংগঠন।
বেঙ্গালুরুর কর্মসূচির পর মহিলাদের সংহতিতে ‘চপ্পল প্রতিবাদ’ করার কথাও জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ‘এসআইআর’-এর ফলে মহিলাদের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার কী ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, সে প্রশ্নকেও সামনে আনা হবে ওই কর্মসূচিতে। প্রকাশ রাজও নাগরিকদের এই প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ লড়াই কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই। বেঙ্গালুরুর কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে যুবদের নিয়ে প্রতিবাদের ঘোষণা করেছেন অভিজিৎ। ‘ভোট চুরি’, নির্বাচনী অনিয়ম এবং জেন-জ়ি-র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে সামনে রেখে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।
❤ Support Us







