Advertisement
  • বি। দে । শ
  • আগস্ট ১০, ২০২৬

‌ট্রাম্পের গাজা চুক্তি প্রত্যাখ্যান ইজরায়েলের, মোথা বন্দরে হুথিদের হামলা, ইয়েমেনে আবার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‌ট্রাম্পের গাজা চুক্তি প্রত্যাখ্যান ইজরায়েলের, মোথা বন্দরে হুথিদের হামলা, ইয়েমেনে আবার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল ইজরায়েল। ইজরায়েল পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, হামাসরা সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র ত্যাগ না করলে তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। গতমাসে ঐতিহাসিক গাজা চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ২০ দফা পরিকল্পনার রূপরেখা দিয়েছিলেন। যার মধ্যে ছিল গাজা থেকে ইজরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণ। হামাস ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় রাজি হলেও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় রাজি হননি।

নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। যতক্ষণ না হামাসরা সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ সম্পূর্ণ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইজরায়েলি বাহিনী সেখান থেকে সরে আসবে না। নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বলেন, ইজরায়েল ২০ দফা এই দলিল প্রত্যাখ্যান করলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে গাজা বিষয়ক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। গত সপ্তাহেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন যে, হামাস অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই ইজরায়েলি বাহিনী সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বলেন, ‘‌আমরা রোডম্যাপের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আশা করছি মধ্যস্থতাকারীরা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।’‌ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসরা আক্রমণ করলে গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত একটা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনে ইরান–সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির লোহিত সাগর উপকূলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটা বন্দরে হামলা চালিয়েছে, যা কৌশলগত নৌপথগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইয়েমেন সরকারের মিত্র বাহিনী, জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনী জানিয়েছে যে, মোখা বন্দরে হুথিদের এক হামলায় চারজন সেনা ও তিনজন বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপমন্ত্রী ফায়েদ আল-নোমান বলেন, বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে বন্দরের ভবন ও জেটিগুলোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্য ও খাদ্য সরবরাহের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে সামরিক বাহিনী জানায়, একটা টেলিভিশন স্টেশনের নিকটবর্তী এলাকাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

মোখা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটা প্রধান বন্দর। হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে না এমন জাহাজগুলিকে সামলানোর জন্য মোথা বন্দরকে সংস্কার করা হয়েছে। হুথিরা এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, তারা সামরিক বাহিনী ও গুদামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, হাজ্জাহ ও সাদা প্রদেশের ওপর দিয়ে সৌদি ড্রোন ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার জবাবে তারাও সৌদি আরবের জাজান শহরে অবস্থিত আরামকো তেল শোধনাগারকে ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় আরামকোর একটি শোধনাগার স্থাপনায় আগুন লাগার খবর দিয়েছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রণালয়টি আগুন লাগার কারণ নির্দিষ্ট করে জানায়নি। এই হামলাগুলো ২০২২ সালের চুক্তির পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!