- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- অক্টোবর ৮, ২০২৫
বিলাসবহুল গাড়ি চোরাচালান কাণ্ডে মালয়ালম অভিনেতা মাম্মুট্টি, দ্যুলকার সলমন, পৃথ্বীরাজের বাড়িতে ইডির অভিযান
ভুটান হয়ে বিলাসবহুল বে-আইনি গাড়ি চোরাচালান কাণ্ডে বড়সড় মোড়। বুধবার সকাল থেকেই কেরল ও তামিলনাড়ুর ১৭টি ঠিকানায় একযোগে ইডি-র অভিযান। তালিকায় মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের ৩ জনপ্রিয় নাম—মেগাস্টার মাম্মুট্টি, তাঁর পুত্র ও অভিনেতা-প্রযোজক দ্যুলকার সলমন এবং অভিনেতা-পরিচালক পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। তল্লাশি হয়েছে অভিনেতা অমিত চাক্কালাক্কল-এর বাড়িতেও। এ মামলায় এর আগে তৎপর হয়েছিল শুল্ক দফতরও। তবে এ দিন আরও বৃহৎ পরিসরে অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। কোচির জোনাল অফিসারের নেতৃত্বে কেরালা ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন প্রান্তে—এরনাকুলাম, ত্রিশূর, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম, কোট্টায়াম এবং কোয়েম্বাটুরের মতো জেলাগুলিতে—একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও বাসভবন, কোথাও গাড়ির গ্যারাজ, কোথাও বা অফিস চত্বরে অভিযান চলে।
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একই মামলায় দ্যুলকার ও পৃথ্বীরাজের বাড়ি এবং অফিসে হানা দিয়েছিল শুল্ক দফতর। বন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছিল দ্যুলকার সলমনের গাড়ি। তবে এ দিনের অভিযান আরো নিবিড়, কেরালার এরনাকুলাম, ত্রিশূর, কোঝিকোড়, মলপ্পুরম, কোট্টায়াম এবং তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চলে বাসভবনে, অফিসে, এমনকি গাড়ির গ্যারাজেও। চেন্নাইয়ের অভিজাত গ্রিনওয়েজ রোডে মাম্মুটির একটি সম্পত্তিতেও হানা দেয় ইডি-র একটি দল। তদন্তকারীদের দাবি, ভুটান হয়ে কর ফাঁকি দিয়ে ভারতে ঢুকেছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি। সেগুলি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ, সেই গাড়িরই ক্রেতাদের তালিকায় রয়েছেন দ্যুলকার, পৃথ্বীরাজের মতো তারকারাও। যদিও তাঁরা এই পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, বা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় গাড়িগুলির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে জানতেন কি না, তা নিয়েই এখন তদন্তের কেন্দ্রে ইডি। একটি সম্ভাবনা সামনে এসেছে যে, ভুলবশত অথবা প্রতারিত হয়েও এই গাড়িগুলি কিনে থাকতে পারেন তারকারা।
তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়ো কাগজপত্রের সাহায্যে ওই গাড়িগুলি ভারতে নিয়ে আসত। সেনাবাহিনী, বিদেশ মন্ত্রক এমনকি মার্কিন দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে বানানো হতো জাল নথি। সেসব নথি দেখিয়ে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করানো হতো অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশসহ উত্তর ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। পরে গাড়িগুলি কেরালায় স্থানান্তরিত করা হতো এবং সেগুলি বিক্রি হতো ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র তারকাদের কাছে। এর আগে দুলকার সালমান কাস্টমস দফতরের বিরুদ্ধে কেরল হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কাস্টমস তাঁর গাড়ি জব্দ করেছে। তাঁর আইনজীবীর দাবি, গাড়িটি ২০০৪ সালে রেডক্রসের জন্য আমদানি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে আইনি উপায়েই দ্যুলকার সেটি কিনেছেন। কাস্টমস যদিও তদন্তের স্বার্থে গাড়ি বাজেয়াপ্ত রাখার যুক্তি দেয়।
তবে এই মুহূর্তে ইডি-র অনুসন্ধান অন্য খাতে বইছে। তারা বলছে, এই পুরো গাড়ি চোরাচালান প্রক্রিয়ায় বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন-এর একাধিক ধারা—বিশেষ করে ধারা ৩, ৪ এবং ৮—লঙ্ঘন হয়েছে। অবৈধ বিদেশি মুদ্রা লেনদেন, হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর, কর ফাঁকি, সব দিক মাথায় রেখেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। সূত্রের খবর, গোটা রাজ্যে ‘অপারেশন নুমখোর’ নামের একটি বিশেষ অভিযান চলছে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে। ইতিমধ্যেই ৩৬টি বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে কাস্টমস। ইডি-র ধারণা, এই সংখ্যাটা ১৫০-এরও বেশি হতে পারে। সেইসব গাড়ির মালিক কারা, তারা কোথা থেকে কিনেছেন, কী দামে কিনেছেন, সেই নিয়েই চলছে বিস্তৃত অনুসন্ধান। তবে গোটা ঘটনায় বিতর্কও কম নয়। অভিযোগ উঠছে, কেবলমাত্র জনপ্রিয় অভিনেতাদের নাম সামনে আনা হলেও, বহু প্রভাবশালী গাড়ি মালিকের নাম এখনো প্রকাশ্যে আনেনি কাস্টমস বা ইডি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন দ্যুলকার, পৃথ্বীরাজের নাম বারবার সংবাদে আসছে, অথচ অন্যদের নাম আড়ালে? ফলে দক্ষিণের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এখন এক অস্বস্তির পরিবেশে। জনপ্রিয় তারকাদের উপর তদন্তের খাঁড়া নামায় স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা-ই এখন দেখার।
❤ Support Us







