- দে । শ
- মার্চ ৩০, ২০২৬
বিহারের অস্তমিত নীতীশ-জমানা! কৌশলে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্শি দখল করতে চলেছে বিজেপি
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিহারের রাজনৈতিক মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর আসন আঁকড়ে ছিলেন নীতীশ কুমার। জোট বদলের রাজনীতির জন্য বহুবার ‘পলটুরাম’ তকমাও পেয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত ছিল—মুখ্যমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সব কৌশলই তিনি রপ্ত করেছেন। তবে এবার সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি ঘটতে চলেছে।
সোমবার তিনি বিহার বিধান পরিষদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন। সম্প্রতি, গত ১৬ মার্চ রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য হয়ে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে ১৪ দিনের মধ্যে পুরনো পদ ছাড়তে হয়। সেই সময়সীমার শেষ দিন ৩০ মার্চ, ফলে এদিনই ইস্তফা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর পদও ছাড়তে হবে তাঁকে। যদিও সংবিধান অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন। এই সময়ের মধ্যেই বিহারের এনডিএ সরকারকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে হবে।
কে হবেন বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জেডিইউ শিবির। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার আর নীতীশের দলের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর আসন থাকার সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতিতে একাধিক নাম সামনে আসছে। নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমার সম্প্রতি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। যদিও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।
বিজেপি নেতা ও বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-র সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মাত্র ৯ বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েই তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই-এর নামও উঠে আসছে। বিশেষ করে ওবিসি ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করেই তাঁকে সামনে আনা হতে পারে বলে ধারণা।
সবমিলিয়ে, বিহারের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বিজেপি নেতার বসার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। সোমবারের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে—নীতীশ যুগের অবসানের পর বিহারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।
❤ Support Us





