- দে । শ
- জুন ১২, ২০২৬
রাজ্যের গ্রন্থাগারে অগ্রাধিকার রবীন্দ্র-নজরুল সাহিত্য, সরবে মমতার বই, ঘোষণা মন্ত্রীর
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর গ্রন্থাগার ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ । দফতরের দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে ।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের স্কুল ও সরকারি লাইব্রেরিগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই রাখার নির্দেশিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল । সেই সময় বিরোধী দল বিজেপি বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষও করেছিল । এবার ক্ষমতায় এসে সেই নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল বিজেপি সরকার ।
দফতরে যোগদানের পর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ মনীষীদের সাহিত্য ও ভাবধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে হবে ।
মন্ত্রী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্রদের লেখা পড়েই আমরা বড় হয়েছি । তাঁদের সাহিত্য ও চিন্তাধারাই বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে । যে সব মনীষীর রচনা বাংলাকে সোনার বাংলা গড়তে সাহায্য করবে, সেই বইগুলিকেই আমরা অগ্রাধিকার দিতে চাই ।”
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের মাধ্যমে বাংলার সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটেনি । তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের অবনতি ঘটেছে, যার জন্য তিনি তৎকালীন সরকারের নীতিকেই দায়ী করেন ।
গৌরী শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে সরকারি লাইব্রেরিগুলিতে কোনও “অপ্রয়োজনীয়” বই রাখা হবে না । পরিবর্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ-সহ বাংলার বিশিষ্ট মনীষীদের রচনা সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত করবে এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে ।
❤ Support Us







