Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫

বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু— ভোট যুদ্ধের ‘সেনাপতি’ ঘোষণা বিজেপির। বাংলার দায়িত্বে কে?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু— ভোট যুদ্ধের ‘সেনাপতি’ ঘোষণা বিজেপির। বাংলার দায়িত্বে কে?

বিজেপির লক্ষ্য এবার ৩ দিকে— বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু। ২০২৪-র লোকসভা ভোটে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর নতুন করে সংগঠন মজবুত করতে কোমর বেঁধে নামল মোদি-নাড্ডা নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার বিজেপি সভাপতি জে.পি. নাড্ডা ৩ রাজ্যের ভোট পরিচালনার দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে তুলে দিলেন, তাঁরা সকলেই দলীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত মুখ। গেরুয়া শিবিরের এ ঘোষণা স্পষ্ট করে দিল, ভোট যত দূরই থাক, প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে চায় গেরুয়া শিবির।

নভেম্বরেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। সেই উপলক্ষে নির্বাচনী দায়িত্ব পেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সহকারী হিসেবে থাকছেন গুজরাত বিজেপি সভাপতি সি.আর. পাটিল এবং উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। বিহারে এনডিএ জোট ভেঙে যাওয়ার পর বিজেপি একা লড়তে নামছে। তাই নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সংগঠন— সবেতেই দরকার জোরদার প্রস্তুতি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দলের নৌকার হাল ধরবার দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁকে সহায়তা করবেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। দুই নেতাই পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ। যাদব ২০২৪-র মহারাষ্ট্র নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগেও বিহার (২০১৫), ওড়িশা (২০২৪), মধ্যপ্রদেশ (২০২৩) সহ একাধিক রাজ্যে দলীয় ভোটপ্রচার সামলেছেন। অন্যদিকে, বিপ্লব দেব ত্রিপুরায় বিজেপির উত্থানের অন্যতম রূপকার। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে এবার জোর দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ওপর।

তামিলনাড়ুর দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতি বাইজয়ন্ত (জয়) পাণ্ডা। তাঁকে সহায়তা করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল। বিজেপি সূত্রে খবর, দক্ষিণ ভারতে প্রভাব বাড়ানো দলের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও তামিল রাজনীতিতে এখনো বিজেপি অনেকটাই প্রান্তিক, তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি-র ভোট ভাগ বেড়েছে। সেই জমি শক্ত করতে এবার সাংগঠনিক রূপরেখায় রদবদল আনছে দল। বিজেপির অন্দরের খবর, ধর্মেন্দ্র প্রধান ও ভূপেন্দ্র যাদব দুজনেই দলের ‘ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি’র স্তম্ভ। প্রধান ২০২২-র উত্তরপ্রদেশ এবং ২০২৩-র কর্ণাটক ভোটের দায়িত্বে ছিলেন। যাদবের রাজনীতিক তীক্ষ্ণতা এবং নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নের দক্ষতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভূপেন্দ্রের নিয়োগ নিছক নাম ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়— বরং রাজ্য বিজেপিকে কার্যত মাঠে নামানোর প্রস্তুতি। দলের অন্দরেও এই পরিবর্তন ঘিরে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সভাপতির পদে পরিবর্তন— সুকান্ত মজুমদারের জায়গায় দায়িত্ব নেওয়া শমীক ভট্টাচার্য— সংগঠনে নতুন গতি এনেছেন বলেই দাবি দলের অন্দরের। পাণ্ডাও ২০২৪-র দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন। যদিও সেখানে ফল আশানুরূপ হয়নি, তবে সংগঠন গড়ে তোলায় তাঁর দক্ষতা নিয়ে দলের আস্থা রয়েছে।

ভূপেন্দ্র দায়িত্ব পাওয়ার খবর ঘোষণার একদিন আগেই ঘটেছে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সল্টলেকের এক পাঁচতারা হোটেলে সংঘ ও বিজেপি নেতৃত্বদের দীর্ঘ বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্ব। ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লি থেকে উপস্থিত হন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ। সংঘের পক্ষে ছিলেন প্রদীপ যোশী, রমাপদ পাল, জলধর মাহাতো ও জিষ্ণু বসু। জানা গেছে, দীর্ঘ ওই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে একাধিক বিষয়। তবে সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) এবার রাজ্যে দলের অন্যতম প্রচার ইস্যু হতে চলেছে সেটিই বেশি এগ্রাধিকার পেয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিএএ-কে সামনে রেখেই ভোটের ময়দানে নামতে হবে। জনমত গঠনের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচিও তৈরি হয়েছে। বঙ্গ বিজেপি নেতাদের মতে, ভোটে কোনো ফাঁক রাখতে চায় না দল। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, শহরাঞ্চল বা জঙ্গলমহল— প্রতিটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করে আলাদা রণকৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

৩ রাজ্যের জন্য ৩ ধরনের কৌশল নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদির দল। বিহারে তাঁরা চাইছে ফের নিজেদের মাটি ফিরে পেতে। পশ্চিমবঙ্গে প্রধান লক্ষ্য— কর্মী সংগঠনের পুনর্গঠন ও জনসংযোগ বাড়ানো। তামিলনাড়ুতে বিজেপির লক্ষ্য— সামান্য ভোটভাগকে সংগঠনে পরিণত করা। তিন রাজ্যেই নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে বুথ স্তরের কর্মী, মণ্ডল ও জেলা ইউনিটকে সক্রিয় করার ওপর। বিহারের ভোট আসছে নভেম্বরেই, বাকি ২ রাজ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করে বিজেপি স্পষ্ট করল, তারা আর অপেক্ষা করছে না। আগে থেকেই ময়দানে নেমে পড়ে এগিয়ে যেতে চায়। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘এটা শুধুই নাম ঘোষণার বিষয় নয়। এ হচ্ছে নির্বাচনী যুদ্ধের আগে সেনাপতি ঠিক করে দেওয়া। সময়মতো সেনা নামিয়ে যুদ্ধ জয় করার ছক আগেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে।’ প্রশ্ন উঠছে— এবার কি বিজেপি বাংলায় সত্যিই মাটি কামড়ে নামতে পারবে? কবে নতুন ‘সেনাপতি’ রাজ্যে পা রাখেন, প্রথম বৈঠক কাদের সঙ্গে হয়, কী রূপরেখা তৈরি হয়, ভূপেন্দ্র যাদব এবং শমীক ভট্টাচার্যের যুগলবন্দিতে রাজ্য বিজেপি কতটা জমি আদায় করতে পারে— সেদিকেই এখন সকলের নজরে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!