Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৮, ২০২৫

জগদীপ ধনখড়ের জায়গায় সিপি রাধাকৃষ্ণনকে পছন্দ, সংঘের আস্থা বিজেপির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জগদীপ ধনখড়ের জায়গায় সিপি রাধাকৃষ্ণনকে পছন্দ, সংঘের আস্থা বিজেপির

মাত্র দুই বছর আগে জগদীপ ধনখড়কে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল — যাঁকে বিরোধীরা পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযুক্ত করেছিল, যার ফলে এই পদটির নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেই ধনখড়ের জায়গায় এবার বিজেপি এমন একজন উত্তরসূরিকে বেছে নিয়েছে, যিনি একেবারে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন। সিপি রাধাকৃষ্ণনকে কৌশলী এবং দক্ষিণ ভারতজুড়ে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি পুরোপুরি জনসঙ্ঘের আদর্শে গড়ে ওঠা একজন নেতা, যেখানে ধনখড় ছিলেন একটি নির্দিষ্ট জাতিগত পরিচয়ের (জাট) বাহক এবং “বহিরাগত” হিসেবে চিহ্নিত।

সিপি রাধাকৃষ্ণনের স্বভাব নম্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, যা ধনখড়ের উচ্চস্বরে আবেগপ্রবণ ও তৎক্ষণাত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার অভ্যাস থেকে অনেকটাই আলাদা।

ধনখড়কে ২০২২ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছিল জাট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে — এটা ছিল কৃষক আন্দোলনে অংশ নেওয়া জাটদের প্রতি একটি বার্তা যে, তাঁরা জাতীয় ক্ষমতার কাঠামোর অংশ এবং তাঁদের কথাও শোনা হয়।

অন্যদিকে, রাধাকৃষ্ণনের নির্বাচন ইঙ্গিত করে যে বিজেপি এখনও ওবিসি ভোটব্যাঙ্ক ও দক্ষিণ ভারতে তাদের প্রসার পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করছে — এমন এক এলাকা যেখানে কর্ণাটক ছাড়া বিজেপির তেমন কোনও জমি নেই।

তিনি সম্প্রতি তামিলনাড়ু মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের সঙ্গে রাজনৈতিক সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে ডিএমকের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। উদয়নিধি স্টালিনের ‘সনাতন ধর্ম’ নিয়ে মন্তব্যের বিরোধিতাও করেছেন, তাঁকে ‘একজন শিশু’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন — যেখানে তিনি বিরোধীদের অনুরোধ পেয়েছিলেন বিতর্কিত পাবলিক সিকিউরিটি বিল অনুমোদন না দেওয়ার জন্য। তবে তাঁর এইসব পদক্ষেপ মূলত ছিল প্রতিষ্ঠানগত অভিজ্ঞতা ও আদর্শগত সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে, যা ধনখড়ের মতো বৈপরীত্য-প্রবণ হস্তক্ষেপ থেকে আলাদা।

ধনখড় ছিলেন একজন আগ্রাসী আইনজীবী ও স্পষ্টবক্তা রাজনীতিক — যাঁর মুখোমুখি লড়াইয়ের প্রবণতা ছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকাকালীন তাঁর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রায়শই খবরের শিরোনামে আসত।

তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর মানে ছিল বিজেপির এক “কঠোর প্রয়োগকারী”কে সেখানে বসানো, এবং পরে তিনি বিরোধীদের চোখে একজন পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তি হিসেবে দেখা যেতে থাকেন।

এইবার রাধাকৃষ্ণনকে বেছে নেওয়া হয়েছে যিনি সংবিধানিক চরিত্রের সাথে আরও ভালোভাবে মানানসই , এতে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে রাজ্যসভায় এখন প্রয়োজন ভারসাম্য, সংঘর্ষ নয়।

রাধাকৃষ্ণনের সাথে বিজেপির আদর্শগত গঠনতন্ত্র ও আরএসএসের (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) সম্পর্ক ধনখড়ের তুলনায় অনেক গভীর।

ধনখড় মূলত একজন আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে উঠে এসেছিলেন — আরএসএসের সাথে তাঁর দীর্ঘদিনের কোনও সংযোগ ছিল না। তিনি ছিলেন বাস্তববাদী রাজনৈতিক পছন্দ, আদর্শিক নয়।

রাধাকৃষ্ণন ১৭ বছর বয়স থেকেই আরএসএস ও জনসঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে ধনখড়ের সময়কাল ছিল আইনি বিতর্ক, তীব্র মন্তব্য এবং সংঘর্ষমূলক অবস্থানে ভরপুর। এতে ঐকমত্য তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আর একটি কার্যকর সংসদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন এমন একজন ব্যক্তি যিনি উত্তেজনা প্রশমিত করতে পারেন — এই দিক দিয়ে রাধাকৃষ্ণনকে উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে।

তাঁর কোনও রাজনৈতিক বোঝা বা কাঁধে অতীতের বিতর্ক নেই। তাঁকে ধরা হচ্ছে ঐকমত্য গড়ার সম্ভাব্য মুখ হিসেবে। যেখানে ধনখড় রাজনীতিকে জাতি ও অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিলেন বলে মনে করা হয়, রাধাকৃষ্ণন তা বিস্তৃত করেন জাতীয় অন্তর্ভুক্তিমূলকতায়।

জগদীপ ধনখড় সংসদের এই বাদল অধিবেশন শুরুর দিনেই পদত্যাগ করেন, তার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বিরোধীদের প্রস্তাব — বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অভিশংসন — গ্রহণ করেন, যা সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই করেছিলেন।

মুখে ধনখড় দাবি করেছিলেন, তাঁর হঠাৎ পদত্যাগ স্বাস্থ্যগত কারণে। কিন্তু পরে একাধিক ঘটনার ধারা প্রকাশ্যে আসে যা দেখায় কীভাবে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরেই পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি — যদিও তিনি এর আগে একাধিকবার দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য প্রমাণ করেছিলেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!