Advertisement
  • দে । শ
  • মে ৫, ২০২৬

বিএলও নমিতা হাঁসদার স্মরণে আবক্ষ মূর্তি কালনায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিএলও নমিতা হাঁসদার স্মরণে আবক্ষ মূর্তি কালনায়

পুকুরপাড়ে বসানো আবক্ষ মূর্তি।  মূর্তির পাশ দিয়ে গেলেই থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। কেউ প্রণাম করেন। কেউ সালাম। কেউ মনে মনেই শ্রদ্ধা জানান। কেউ আবার নির্বাচন কমিশনকে গাল পাড়েন। কালনার বুলবুলিতলা পুলিশ ফাঁড়ি পেরিয়ে যে রাস্তাটা মেমারির দিকে চলে গিয়েছে, সেখানেই  চকবলরাম গ্রাম। মূর্তিটি এই গ্রামেরই বধূ নমিতা হাঁসদার। অঙ্গনওয়ারির দিদিমণি নমিতা বিএলও-র দায়িত্ব পেয়ে এসআইআর-র কাজ করতে করতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এলাকার লোকজনই মূর্তিটি বসিয়েছেন। মানুষও যাতায়াতের পথে নীরবে নমিতাকে শ্রদ্ধা জানান।

কী হয়েছিল ? জানা গেল নমিতার স্বামী মাধব হাঁসদার সঙ্গে কথা বলে। একদিকে অঙ্গনওয়ারির দায়িত্ব সামাল দেওয়া। অন্যদিকে এসআইআর-র কাজ। প্রায়ই সারারাত জাগতে হত। রোজই নিত্যনতুন ফরমান। কাজ কতটা এগোল, ঘন্টায় ঘন্টায় হিসেব তলব। লক্ষ্য পূরণ না হলেই ধাতানি। ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়াও হত না। গত ৯ নভেম্বর এসআইআর-র কাজ করতে করতেই লুটিয়ে পড়েন নমিতা। জ্ঞান হারান। কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতেই সব শেষ। নাওয়া-খাওয়া-বিশ্রাম শিকেয় তুলে টানা কাজের ধকলের পরিণতিতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন নমিতা। এলাকার বাসিন্দা মাতঙ্গিনী কোঁড়া, শেফালি সরকাররা বলছিলেন, ‘দিদির সেদিন খাওয়া হয়নি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই কোনোরকমে দুটো নাকে-মুখে গুঁজে ফের কাজে লেগে পড়েন।’ নমিতার ছেলে মানিক হাঁসদার ক্ষোভ, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজ করতে গিয়ে মা চলে গেল। অথচ ন্যূনতম সাহায্যও পাইনি।’

প্রয়াত নমিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ জিৎ কোঁড়া, নরেন সরেনরা। তাঁদের কথায়, ‘অঙ্গনওয়ারিতে কেউ না গেলেই দিদি খোঁজ নিতে বাড়ি চলে আসতেন। প্রসূতিদের চিকিৎসার ব্যাপারেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেওয়া-সহ নানাভাবে সাহায্য করতেন।’ মৃত্যুর পরও একজন সাধারণ বধূ যে এতটা জীবন্ত থাকতে পারেন, এলাকায় না ঘুরলে বিশ্বাস হবে না।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!