Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • নভেম্বর ১২, ২০২৫

ছোট্ট টিকিট, সুপ্রাচীন ইতিহাস ! ‘বঙ্গপেক্স ২০২৫’-এ ডাকটিকিটের রঙে ফিরছে স্মৃতি, শিল্প আর সময়ের দলিল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ছোট্ট টিকিট, সুপ্রাচীন ইতিহাস ! ‘বঙ্গপেক্স ২০২৫’-এ ডাকটিকিটের রঙে ফিরছে স্মৃতি, শিল্প আর সময়ের দলিল

চিঠির দিন ফুরিয়েছে বহুদিন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত চিঠি। সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে হাতের লেখা চিঠি, কালির গন্ধ, হাতের স্পর্শ আর রঙিন ডাকটিকিট আজ প্রায় অতীতের কড়াল গহ্বরে। যেটুকু যা পড়ে আছে তা নেহাতই অফিস-কাছারির নিরস বার্তা। তবু ইতিহাসকে হারিয়ে যেতে দিতে নারাজ ডাকবিভাগ। তাই আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতার সায়েন্স সিটিতে বসছে এক অনন্য আয়োজন— রাজ্যস্তরীয় ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ‘বঙ্গপেক্স ২০২৫’।

ডাকবিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের উদ্যোগে আয়োজিত এই চারদিনব্যাপী প্রদর্শনীতে মিলবে দেশ-বিদেশের বিরল ও অতিবিরল ডাকটিকিট, স্পেশাল কভার, ফার্স্ট ডে কভার এবং সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অজস্র স্মৃতি। উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস। চোখ ধাঁধানো সাজে সায়েন্স সিটির অডিটোরিয়াম বদলে যাবে অতীতের নস্টালজিয়ার এক জীবন্ত জাদুঘরে। প্রতিদিনই থাকছে আলাদা থিম— কোথাও বাংলা সিনেমার শতবর্ষ, কোথাও বাংলার নবজাগরণের ইতিহাস, আবার কোথাও সাহিত্য-সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। ডাকটিকিটের ক্ষুদ্র ফ্রেমে ফুটে উঠবে গোটা এক যুগের প্রতিচ্ছবি।

ডাকবিভাগ সূত্রে খবর, প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন দেশের নানা প্রান্তের ফিলাটেলিস্ট বা ডাকটিকিট সংগ্রাহকরা। তাঁদের বিরল সংগ্রহই এ বার দর্শকদের সামনে নতুন করে মেলে ধরবে ইতিহাসের রঙিন অধ্যায়। পাশাপাশি প্রকাশিত হবে একাধিক নতুন স্মারক কভার, বিশেষ পিকচার পোস্টকার্ড এবং ফিলাটেলিক প্রকাশনা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডাকটিকিট সংগ্রহের প্রতি আগ্রহ ফেরাতে থাকছে নানা আকর্ষণীয় আয়োজন— ‘বসে আঁকো’ প্রতিযোগিতা, স্কুল কুইজ, প্রবন্ধ লিখন, স্ট্যাম্প ডিজাইন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি। বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে ‘ফিলাটেলি ওয়ার্কশপ’, যেখানে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা হাতে-কলমে শিখবে ডাকটিকিট সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কৌশল।

পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার বলেন, ‘আজকের প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকে। চিঠি বা ডাকটিকিটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রায় নেই বললেই চলে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা চাই, তারা যেন আবার সেই শখের জগতে ফিরে আসে। ডাকটিকিট শুধু সংগ্রহ নয়, এ এক ঐতিহ্যের চর্চা, ইতিহাসের চর্চা, মননের চর্চা।’ তিনি জানিয়েছেন, প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই প্রকাশ পাবে ১৯২৫ সালের নেতাজীর দুর্গাপুজো উপলক্ষে বের হওয়া বিশেষ কভার, যা এই আয়োজনে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে। পরবর্তী দিনগুলিতে প্রকাশিত হবে বাংলার নবজাগরণ ও বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতাদের স্মরণে বিশেষ ডাকচিহ্ন ও বাতিলকরণ। শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ-এর নামেও প্রকাশ করা হবে একটি স্মারক কভার। বলাই বাহুল্য, সায়েন্স সিটি এই ৪ দিন পরিণত হবে ইতিহাস, সৃজনশীলতা আর কৌতূহলের এক মিলনমেলায়। দর্শকদের জন্য প্রবেশ একেবারেই অবাধ। তাই সময় আর আগ্রহ থাকলে ঘুরে আসতেই পারেন স্মৃতিলেন ধরে। হয়তো দেখা পেতে পারেন কোনো পুরোনো খামের, যাতে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের এক অমূল্য গল্প, যা সময়ের গর্ভ থেকে ডাকছে আজও।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!