- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
এসআইআরে নাম বাদ, হজযাত্রীদের আবেদন দ্রুত শোনার নির্দেশ, দু-সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিল হাইকোর্ট
‘এসআইআর’-এর জেরে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পাসপোর্ট এবং হজের ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েছেন হজযাত্রীরা। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর আর্জি নিয়ে ‘এসআইআর’ আপিল ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি সুরাহা। সেসব আবেদন দ্রুত শুনে নিষ্পত্তির জন্য এ বার ট্রাইবুনালকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার মামলাটির শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানান, সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের আবেদন আগামী দু-সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত জানানো উচিত।
মামলাকারীদের বক্তব্য, এসআইআর পর্বে তাঁদের কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আবার কারও নাম রাখা হয়েছে বিবেচনাধীন তালিকায়। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পাসপোর্ট তৈরি বা সংশোধনের পাশাপাশি হজের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছে । সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ ‘এসআইআর’ আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেসব আবেদনের শুনানি হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে হজে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীরা। সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। মামলাকারীদের তরফে আদালতকে জানানো হয়, ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁরা যথাযথ নথি দিয়ে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আবেদনের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে হজযাত্রার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরিতেও বাধা তৈরি হচ্ছে বলে আদালতে জানানো হয়। বিষয়টি শুনে আবেদনগুলি ফেলে না রেখে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করতে ট্রাইবুনালকে নির্দেশ দেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালতের তরফে বলা হয়, হজযাত্রীদের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সম্ভব হলে দু-সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত জানানোর পরামর্শও দেন বিচারপতি।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত আপত্তি, নাম বাদ পড়া কিংবা নাম সংযোজনের আবেদন খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ আপিল ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে তৈরি এই ট্রাইবুনালগুলিতে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। তবে সেই তুলনায় নিষ্পত্তির হার কম হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতির পরিসংখ্যান গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে পেশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত ট্রাইবুনালগুলিতে মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯টি আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টি। অর্থাৎ ওই তারিখ পর্যন্ত ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।
আবেদনের নিষ্পত্তির বর্তমান গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া ওই পরিসংখ্যানে কার্যত উদ্বেগের ছবিই উঠে এসেছে। একই হারে কাজ চলতে থাকলে জমে থাকা সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেতে পারে বলে হিসাব সামনে এসেছে। এমন আবহে হজযাত্রীদের আবেদনের ক্ষেত্রে দ্রুত শুনানি এবং সিদ্ধান্তের জন্য হাই কোর্টের নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মামলাকারীদের মূল অভিযোগ ছিল, ট্রাইবুনালে আবেদন করেও সময়মতো শুনানি না হওয়ায় তাঁদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভোটার তালিকায় নামের সঙ্গে পাসপোর্ট এবং ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তার যোগ থাকায় বিষয়টি তাঁদের কাছে সময়সীমাবদ্ধও। সে কারণেই সাধারণ আবেদনের তুলনায় তাঁদের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে সওয়াল করা হয়। এখন হাই কোর্টের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের আবেদন কত দ্রুত শুনে ট্রাইবুনাল সিদ্ধান্ত জানায়, সে দিকেই নজর থাকবে। আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী দু-সপ্তাহের মধ্যে সে প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
❤ Support Us





