- দে । শ
- আগস্ট ৫, ২০২৬
এসএসকেএমে যেতে অনীহা অভিষেকের, বিদেশে চিকিৎসার আর্জি খারিজ হাই কোর্টে
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে করা আবেদন শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেল কালিঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসকদের সামনে হাজির হতে রাজি নন— আইনজীবীর মুখে এমন অবস্থান জানার পরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।
বুধবার মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিচার করার আগে রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএমে অভিষেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়া জরুরি। সে উদ্দেশ্যে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশও দেয় আদালত। বোর্ডের সদস্যেরা অভিষেকের চোখের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করে জানাবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেশে সম্ভব কি না, না কি বিদেশে উন্নত চিকিৎসাই একমাত্র বিকল্প।
কিন্তু আদালতের এ নির্দেশের পরই মোড় ঘুরে যায়। অভিষেকের আইনজীবী বেঞ্চকে জানান, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে সম্মত নন। আদালতের নির্দেশ পালন করতে অনীহার কথা স্পষ্ট হওয়ার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আবেদনটি আর গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেননি। ফলে বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে করা মামলাটিই খারিজ হয়ে যায়। মামলার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগেই। চোখের জটিল সমস্যার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা চলছে এবং সেই চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে গত ২০ জুলাই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানতে চেয়েছিলেন, কলকাতার কোনো বিশেষজ্ঞ চক্ষু হাসপাতাল বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে কি না। তখন অভিষেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তাঁর চিকিৎসা বহু দিন ধরেই আমেরিকায় চলছে। তবে আদালত সে যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে সক্ষম কি না, তা আগে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত। এদিকে অভিষেকের বিদেশযাত্রার বিরোধিতা করে রাজ্যের পক্ষও আদালতে সওয়াল করে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার আবেদন বিবেচনার আগে চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনীয়তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলেই রাজ্যের দাবি।
প্রসঙ্গত, বিষয়টি এর আগে সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছিল। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়, সাত দিনের মধ্যে আবেদনটির নিষ্পত্তি করতে হবে। সে নির্দেশ মেনেই বুধবার দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আদালতের নির্ধারিত চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহার জেরে শেষ পর্যন্ত বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পাওয়ার পথ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
❤ Support Us








