Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ৬, ২০২৫

রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান? মণিপুরে পুনরায় বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান? মণিপুরে পুনরায় বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনা

৭ মাস ধরে রাষ্ট্রপতি শাসনের আওতায় থাকা মণিপুরকে ফের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ফেরানোর দিকে এগোচ্ছে দিল্লি? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মণিপুরে পুনরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। রাজ্য রাজনীতির নিষ্ক্রিয়তা কাটিয়ে উঠতে এবং উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করতে চলতি সপ্তাহেই দিল্লি রাজ্য সরকারের অনুমোদন দিতে পারে বলে খবর। রাজধানীর রাজনৈতিক আঙিনায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, রাজ্যের দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনা ইতোমধ্যেই অনেকটাই এগিয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের নেতৃত্বে বিধায়ক এইচ ডিংগো, টি রবীন্দ্রো, এস রঞ্জন, প্রাক্তন মন্ত্রী গোবিন্দাস কন্থৌজাম এবং হিল এরিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ডিনগাংলুং গ্যাংমেই সহ রাজ্যের অন্যতম দলীয় নেতারা এখন দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁরা শনিবার থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে বসেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চুড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা সোমবার, যেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় ভল্লাও বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন, যা নতুন সরকার গঠনের জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে। তাঁর অবস্থান রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। ধারণা করা হচ্ছে, রাজ্যপাল ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলাকালীন মণিপুরে পুনরায় সরকার গঠন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শীর্ষস্থানীয় এক বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, ‘বিধানসভা এখনও ভেঙে দেওয়া হয়নি, তাই ‘সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন’ অবস্থায় থাকায় সরকারের পুনঃস্থাপনে আইনি বাধা নেই। সবকিছু কেন্দ্রের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া মাত্রই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আশা করছি এই সপ্তাহের মধ্যেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, জাতিগত হিংসায় জেরবার রাজ্যের চাপ সামলাতে না পেরে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের পদত্যাগ করেন। তাঁর পরেই সেখানে চলছে রাজনৈতিক অচলাবস্থা। কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের দাবি না জানানোয় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রয়েছে। গত ৭ মাসের রাষ্ট্রপতি উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রবল ছাপ ফেলেছে। বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক কাজ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত কয়েক মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ায় এবং নাগরিক জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরেও আসায় এবার সরকার গঠনের পথে বাধা অনেকটাই কমেছে। বিজেপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে তারা ক্ষমতা কায়েম রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে, বিশেষ করে উন্নয়ন ও সুরক্ষা ক্ষেত্রগুলোতে। নতুন সরকারের গঠনে সাংগঠনিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে, বিশেষ করে পাহাড় ও সমতল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান জাতিগত উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামলানো বড়ো কাজ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দল ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতাও করতে হবে দিল্লিকে।

অন্যদিকে, মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে মোতায়েন করা সেনা কনভয়ের ওপর আক্রমণের তদন্তেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ওই হামলায় ২ সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। হামলায় অভিযুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠন পিপলস লিবারেশন আর্মির সাথে যোগ থাকার অভিযোগে ১৫ জন সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বলছে, গ্রেফতারি ও অভিযান সাময়িক নয়, বরং রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায়, উগ্রপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, মণিপুরে নিরাপত্তা আরো জোরদার করবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!