- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫
কানাডায় বিচ্ছিন্নতাকামীদের তহবিল ! অবশেষে ভারতের অভিযোগ মেনে রিপোর্ট প্রকাশ অটোয়ার
শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির বহু বছরের অভিযোগকে সত্যি প্রমাণ করল অটোয়া। কানাডার অর্থ মন্ত্রকের সদ্য প্রকাশিত ‘২০২৫ অ্যাসেসমেন্ট অব মানি লন্ডারিং অ্যান্ড টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং রিস্কস ইন কানাডা’ শীর্ষক সরকারি রিপোর্টে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেওয়া হলো, খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলি কানাডার ভেতর থেকেই আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল সিখ ইয়ুথ ফেডারেশন-এর মতো সংগঠনগুলি কানাডার মাটি থেকেই অর্থ জোগাড় করছে এবং তা ব্যবহার করছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসিদ্ধ হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য।
ভারত বহু বছর ধরে কানাডাকে এ বিষয়ে বার বার সতর্ক করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কানাডায় নির্বিঘ্নে মিছিল-মিটিং করে, গণমাধ্যমে প্রচার চালায়, এমনকি অর্থ সংগ্রহ করতেও কোনো প্রকার বাধার মুখে পড়ে না। আর সেসব অর্থ ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গী কার্যকলাপে ব্যবহৃত হয়। অটোয়া এত দিন, নইয়াদিল্লির সমস্ত অভিযোগ কার্যত এড়িয়ে গিয়েছে। একধাপ এগিয়ে, ২০২৩ সালে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, খালিস্তানি জঙ্গি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর খুনে ভারতের হাত রয়েছে। সে অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করেছিল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। তাতে দু-দেশের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কূটনীতিক সদস্য পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়।
এদিন, কানাডার নতুন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, কানাডায় খালিস্তানি সংগঠনগুলি অতীতে বৃহৎ অর্থসংগ্রহ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। যদিও বর্তমানে তা ছোটো ছোটো গোষ্ঠীতে সীমাবদ্ধ। তবে তাদের কার্যকলাপ থেমে যায়নি। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, সংগঠনগুলি কানাডায় বসবাসকারী প্রবাসী শিখ সম্প্রদায়ের একাংশের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে। পাশাপাশি দাতব্য সংস্থা বা এনপিও-কে সামনে রেখে অর্থ ঘোরানো হয়। এর বাইরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহ হয়—যেমন মাদক পাচার, গাড়ি চুরি, এমনকি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে অর্থ পাচার। ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ঘটনাও ধরা পড়েছে। অর্থাৎ, খালিস্তানি সংগঠনগুলি শুধুমাত্র প্রবাসী সম্প্রদায়ের আবেগকে কাজে লাগায় তাই নয়, বহুমুখী আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরি করে নিজেদের সংগঠন পরিচালনা করে আসছে। প্রকাশিত রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সংগঠন যেমন দাতব্য খাতে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে, খালিস্তানি সদস্যরাও একইভাবে দাতব্য খাতের সুযোগ নিচ্ছে। যদিও আর্থিক পরিমাণ তুলনায় কম, তবুও সেটি কানাডার নিরাপত্তার জন্য বড়োসড়ো হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস-এর বার্ষিক রিপোর্টেও আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, খালিস্তানি উগ্রপন্থীরা কানাডাকে ব্যবহার করছে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার, তহবিল সংগ্রহ এবং হিংসার পরিকল্পনার ঘাঁটি হিসেবে। নতুন রিপোর্ট সে তথ্যকেই প্রতিষ্ঠিত করল। কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত-কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে। দু-দেশেই কূটনীতিকদের পুনর্বহাল করা হয়েছে। কিন্তু খালিস্তানি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে অটোয়ার অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কানাডা কি সত্যিই ভারতের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? নাকি আবারও রাজনৈতিক সুবিধার জন্য খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির উপস্থিতিকে উপেক্ষা করে যাবে? কারণ কানাডার অভ্যন্তরে শিখ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিতে যে বিরাট ভূমিকা রাখে, তা সকলেরই জানা। তাই নয়াদিল্লির আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকারোক্তি এলেও বাস্তবে কানাডা হয়তো এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে যাবে না। যদিও, কূটনৈতিক মহলের অনুমান, এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর ভারত আরো জোরালোভাবে কানাডার কাছে পদক্ষেপ দাবি করবে। কিন্তু খালিস্তানি প্রশ্নে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্কে কি শেষ পর্যন্ত আবারো চুপ করে যাবে অটোয়া?
❤ Support Us








