Advertisement
  • দে । শ
  • মে ১৮, ২০২৬

কর্কট রোগের সঙ্গে লড়ে মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য মন্তেশ্বরের ঝর্ণার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কর্কট রোগের সঙ্গে লড়ে মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য মন্তেশ্বরের ঝর্ণার

পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝেই ধরা পড়ে ক্যান্সারের মত মারণ রোগ। পড়াশোনায় ছেদ দিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় মুম্বইয়ে। তাই ২০২৫-এ পরীক্ষায় বসা হয়নি। মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়লেও হাল ছাড়েনি মন্তেশ্বরের ভারুছা গ্রামের ঝর্ণা ঘোষ। অদম্য জেদ ও ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৩৩ (৯০ শতাংশ) নম্বর পেয়ে নজরকাড়া রেজাল্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মন্তেশ্বর সতীকৃষ্ণমণি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ঝর্ণা।  জীবনযুদ্ধে হার মানতে না চাওয়া ঝর্ণার এই সাফল্যকে ‘বড় যুদ্ধ জয়’ বলে মনে করছেন তার বাড়ির লোকজন থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষিকারা।

মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে ঝর্ণার। পড়াশোনা শিকেয় তুলে পুলিশ কর্মী বাবা সার্থক কুমার ঘোষ ও গৃহবধূ মা ঝুমা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মুম্বই যেতে হয় ঝর্ণাকে। শুরু হয় বাঁচার লড়াই। চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে ঝর্ণা। ২০২৫-র জুলাই থেকে ফের পড়াশোনা শুরু করে ঝর্না। তার কথায়, ‘প্রথমবার মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা দিতে পারিনি। মাঝপথেই চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়। সেইসময় মানসিক কষ্ট হলেও মানিয়ে নিতে হয়েছিল। পরের বছর যাতে পরীক্ষা দিতে পারি মনে মনে সেই সংকল্প নিয়েছিলাম। ৭ মাস বইপত্র ছুঁতেই পারিনি।’ ফাঁক পূরণে পড়াশোনার সময় বাড়িয়েই  এই নজরকাড়া সাফল্য। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার ইচ্ছা থাকলেও  চিকিৎসার কারণে ঝর্ণা কলাবিভাগে পড়বে। গানবাজনা ঝর্ণার প্রাণ। তাই ভবিষ্যতে মিউজিক নিয়ে পড়তে চায় ঝর্ণা। ঝর্ণার মা ঝুমা ঘোষ বলছিলেন, ‘একের পর এক ধাক্কা সামলে মেয়ে যে রেজাল্ট করেছে, তা আমাদের কাছে গর্বের ও আনন্দের বিষয়। ও সম্পূর্ণ সুস্থ হোক। ওর স্বপ্ন পূরণ হোক।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!