- দে । শ
- এপ্রিল ৪, ২০২৬
নাসিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কুয়োয় পড়ল গাড়ি। ৬ শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জনের মৃত্যু
মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন শিশু। শুক্রবার রাতের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ডিন্ডোরি তালুকের শিবাজি নগর এলাকা থেকে শুরু করে তাঁদের গ্রাম ইন্দোর গ্রাম পর্যন্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি গভীর কুয়োর মধ্যে সোজা পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গাড়িতে থাকা দারগুড়ে পরিবারের সকল সদস্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, রাস্তা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, তার উপর গাড়ির গতি ছিল তুলনামূলক বেশি, এই দুইয়ের জেরেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারান বলে প্রাথমিক অনুমান। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল দত্তু দারগুড়ে (৩২), তাঁর স্ত্রী রেশমা, অনিল দারগুড়ে এবং পরিবারের ৬ শিশু সদস্য, যাদের বয়স ৭ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। পাঁচজন কন্যা ও এক পুত্রসন্তান একসঙ্গে এইভাবে প্রাণ হারানোয় পরিবারটির উপর নেমে এসেছে বজ্রাঘাতের মতো শোক। স্থানীয়দের বক্তব্য, দারগুড়ে পরিবারটি এলাকার পরিচিত ও শান্তিপ্রিয় পরিবার হিসেবে সুপরিচিত ছিল।
জানা গিয়েছে, একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। অনুষ্ঠানস্থল থেকে অদূরেই ঘটে বিপর্যয়। আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের গভীর কুয়োয় পড়ে যায়। কুয়োটি জলে ভর্তি থাকায় গাড়ির ভেতরে থাকা কেউই আর বেরোতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ বিপর্যয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলার একটি দল। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। গভীর রাত পর্যন্ত চলে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান। দুটি ভারী ক্রেনের সাহায্যে বহু চেষ্টার পর কুয়ো থেকে গাড়িটি তোলা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি নিয়ে যাওয়া হয় ডিন্ডোরি সরকারি হাসপাতাল-এ। সেখানে চিকিৎসকেরা সকলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত গতি এবং রাস্তার পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এইদুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। পাশাপাশি, কুয়োর চারপাশে কোনও সুরক্ষাবেষ্টনী না থাকাও বিপদের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই পরিবারের এতজন সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ইন্দোর গ্রাম। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা—কান্না আর শোকবার্তার মধ্যেই কাটছে সময়। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল গ্রামীণ সড়ক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে।
❤ Support Us





