- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৩, ২০২২
সিবিআই হেফাজতে লালনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, কেন্দ্র বিরোধিতায় রাজ্যের শাসকের নয়া অস্ত্র
বগটুই কাণ্ডের অন্যতম মূল অভিযুক্ত লালন শেখের সিবিআই হেফাজতে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে রাজ্য রাজনীতি সরগরম । সিবিআই আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও পুলিশের অত্যাচারেই মৃত্যু বলছে লালনের পরিবার। রাজ্য পুলিশের তরফে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে। স্বভাবতই এই মুহুর্তে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের তরজার কেন্দ্রে লালন শেখের মৃত্যু।
সোমবার রামপুরহাটে সিবিআইএর অস্থায়ী শিবিরে বিকেলে বড় লালন শেখের মৃত্যু ঘটে। সিবিআই এর শৌচাগারে লালনের ঝুলন্ত মৃতদেহ মিলেছে। সিবিআই আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও ময়না তদন্তের আগে স্পষ্ট করে কিছুই বলা সম্ভব নয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী সোমবার সিবিআই এর অস্থায়ী শিবিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান সিবিআইএর অফিস থেকে বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিটে তাঁর কাছে ফোন আসে এবং তিনি জানতে পারেন সিবিআই হেফাজতে লালনের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর কথা। তবে তিনিও ময়নাতদন্তের আগে কোন সিদ্ধান্তে আসতে চাননি। কিন্তু অবাক করার মত ব্যাপার হল, ময়না তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা না করেই ইতিমধ্যেই ৩০২ ধারায় সিবিআইএর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে রাজ্য পুলিশ।
এদিকে লালনের মৃত্যুতে সিবিআইএর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে বিক্ষোভে জানাচ্ছেন বগটুই এর সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থানায় সিবিআই এর রাহুল,ভাস্কর,বিলাস নামে তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সদ্য স্বামী হারানো লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি। তিনি তার অভিযোগে লালনকে মারধর করা ছাড়াও সিবিআইএর বাড়িতে এসে ভাঙচুরের কথা জানান। তার স্ত্রীর দাবি সিবিআই তার কাছে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ঘুষ চায় লালনকে বাঁচিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে। শোকাহত রেশমা অসুস্থ হয়ে পড়ায় রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আপাতত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই হাসপাতালেই লালনের মঙ্গলবার ময়না তদন্ত হওয়ার কথা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সিবিআই এর অস্থায়ী ক্যাম্প ঘিরে লালনের দিদি,মেয়ে সহ গ্রামবাসীরা ধর্নায় বসেছেন। লালনের মেয়ের স্পষ্ট অভিযোগ,”সিবিআই পিটিয়ে মেরে ফেলেছে আমার বাবাকে। সিবিআইএর ফাঁসি চাই।”এমনকি টায়ার জ্বালিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধেও নেমে পড়েছে বগটুইয়ের সাধারণ গ্রামবাসীরা। লালনের মেয়ের পাশাপাশি তারাও সিবিআইএর কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশও নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বগটুই গ্রামে।
বগটুই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বাভবিকভাবেই বাদানুবাদে লিপ্ত হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল ও বিরোধী দল বিজেপি। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোমবার জানিয়েছেন সিবিআই হেফাজতে কোনো অভিযুক্তর মৃত্যুর মত এত স্পর্শকাতর ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের ধারণা বিজেপির ভূমিকা এখানে থাকলেও থাকতে পারে যেহেতু তাদের নেতারা আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন সিবিআইএর তদন্তের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে। কুণালের এই মন্তব্যের জবাবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের ওপর জোর দিতে চেয়েছেন যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসতে পারে। সিপিআই এম নেতা সুজন চক্রবর্তীও সিবিআইকেই হত্যার জন্য দায়ী করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করেছেন।
ইতিমধ্যে সিবিআই এর বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষী সিবিআই আধিকারিকদের শাস্তি দাবি করে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি বা এপিডিআর একটি পিটিশন সিবিআইএর নিজাম প্যালেসের অফিসে জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য গত মার্চমাসে র ২১ তারিখে তৃনমূল পঞ্চায়েত সদস্য ভাদু শেখের মৃত্যুর পর বগটুইতে যে অগ্নিকাণ্ড ঘটে তার মূল অভিযুক্ত ছিল এই বড় লালন শেখ । এখন তার এই ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা না সিবিআই এর নিজেরই কীর্তি তা তদন্ত প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়গুলোতে স্পষ্ট হবে।
❤ Support Us







