Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

এসএসকেএম উডবার্নে ‘অনন্য’ ভবনের সূচনা, একগুচ্ছ স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। ব্রিকস-গর্বে মিলল হাতেগরম উপহার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এসএসকেএম উডবার্নে ‘অনন্য’ ভবনের সূচনা, একগুচ্ছ স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। ব্রিকস-গর্বে মিলল হাতেগরম উপহার

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন পালক। এসএসকেএম হাসপাতালের বুকে আত্মপ্রকাশ করল ‘উডবার্ন ২ – অনন্য’ ভবন। ১০ তলা এই অত্যাধুনিক ভবনকে কেন্দ্র করে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল মঙ্গলবার। হাসপাতাল চত্বরে নবনির্মিত এই ভবনের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘এতদিন বেসরকারি হাসপাতালে যা মিলত, এবার তা মিলবে সরকারি হাসপাতালে, অনেক কম খরচে।’ মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় ‘উডবার্ন ২’ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বোধন সেরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জানালেন, ‘এই ভবন শুধু একটা বিল্ডিং নয়, এটা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এখানে রোবোটিক সার্জারি হবে, ক্রিটিক্যাল কেয়ারের জন্য থাকবে ৫০টি বেড, থাকছে ১৩১টি কেবিন। এমন পরিষেবা সরকারি হাসপাতালে আগে কখনো হয়নি।’

এই দশতলা ভবনে থাকছে মোট ১৩১টি শয্যা, যার মধ্যে ১০২টি আধুনিক কেবিন এবং ৮টি স্যুইট। ক্রিটিক্যাল রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৫০টি বেডের বিশেষ ইউনিট। এমনকি থাকবে ২১টি সিসিইউ বেডও। আধুনিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো থাকছে ভবনের প্রতিটি তলায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমরা রেট কমিয়ে দিয়েছি। প্রাইভেটে যা ২০ হাজার, তা এখানে ১৫ হাজারে পাবেন। এক শয্যার কেবিন ৫ হাজার টাকা, স্যুইট ৮ হাজার, এইচডিইউ ১২ হাজার, আইসিইউ ১৫ হাজার—সকলেই যাতে চিকিৎসা পেতে পারেন, সেইদিকেই আমাদের নজর।’ রোগীদের জন্য থাকছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা। সরকারি হাসপাতালে এতদিন এ ধরনের পরিকাঠামো ছিল না বললেই চলে। মঙ্গলবার উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের সরকারি চিকিৎসায় এ জিনিস রোল মডেল হয়ে উঠবে।’

এই দিনেই মুখ্যমন্ত্রী আরো একটি গর্বের কথা জানান। তিনি বলেন, আইপিজিএমইআর তথা এসএসকেএম হাসপাতালকে ব্রিকস নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশজুড়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নির্বাচিত মাত্র ২টি সংস্থার মধ্যে একটি পশ্চিমবঙ্গের এই প্রতিষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এতগুলো হাসপাতালের দেখভাল করা চাট্টিখানি কথা নয়। আইপিজিএমইআর ছাতার মতো কাজ করে বলেই এ সম্মান। এমন সাফল্যের জন্য আমি সকল স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাই।’ আনন্দঘন মুহূর্তকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য ১০ লক্ষ টাকার ‘রিফ্রেশমেন্ট ফান্ড’ ঘোষণা করেন। জানিয়ে দেন, ‘এই অর্থ কোনো কাজের জন্য নয়, শুধুই আনন্দের জন্য। আপনারা যেন একটু আড্ডা মারতে পারেন, রিল্যাক্স করতে পারেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক শান্তিও তো দরকার।’

উডবার্ন ২-এর পাশাপাশি এ দিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের একগুচ্ছ স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সব মিলিয়ে এদিন ১৭টি প্রকল্পের সূচনা হয়, যার মোট ব্যয় প্রায় ২১৭ কোটি টাকা। তার মধ্যে রয়েছে কলকাতা পুলিশ হাসপাতালের নতুন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক, যার নির্মাণ ব্যয় ২৫.৭১ কোটি টাকা। চালু হল লি রোডে নির্মিত সাততলা ছাত্রাবাসও, যার খরচ ২৪.৪৯ কোটি টাকা। রেডিওলজি বিভাগে বসানো হল ১২৮ স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিন, যার জন্য খরচ হয়েছে ৭.৬৪ কোটি। থাকছে সম্পূর্ণ রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম, যার নির্মাণ ব্যয় ৭.৫০ কোটি। স্বাস্থ্য ভবনের নতুন অ্যানেক্স-১-এর ব্যয় ১৬ কোটি এবং ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের নতুন ভবনের খরচ ৩২.৯২ কোটি টাকা। সমস্ত প্রকল্পের উদ্বোধনের পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১১ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম, তখন স্বাস্থ্যখাতের বাজেট ছিল ৩,৬৮৪ কোটি টাকা। আজ তা দাঁড়িয়েছে ২১,৩৫৫ কোটিতে। আগে ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি ছিল ৬০ শতাংশ, এখন তা ৯৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী চালু হয়েছে। বিনামূল্যে বাচ্চাদের হার্ট অপারেশন হচ্ছে। স্বাধীনতার পর কোনো রাজ্যে এতটা স্বাস্থ্যখাতে অগ্রগতি হয়নি।’

পাশাপাশি, এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাস্থ্যবীমার ওপর থেকে জিএসটি ছাড়ের দাবি তিনি প্রথম করেছিলেন। এখন কেন্দ্র সে ছাড় দিলেও, এতে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। তাঁর কথায়, ‘চাপ রাজ্যের উপরেই পড়বে। অথচ অনেকেই কৃতিত্ব নিচ্ছেন। বিষয়টা কেউ বুঝছে না।’ অনুষ্ঠানের শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসএসকেএম-এ পূর্ব ভারতের প্রথম ‘বোন ব্যাংক’ তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে কিডনি ও লিভার ব্যাংকের কথাও ভাবা হচ্ছে। নতুন উডবার্ন ওয়ার্ডের সংস্করণ আরো উন্নত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের অনুষ্ঠান শুধু একটি ভবনের উদ্বোধন নয়, বরং রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে এক ঐতিহাসিক গৌরবের দিন। সরকারি পরিষেবাকে আধুনিক ও মানবিক রূপ দিতে রাজ্য যে বদ্ধপরিকর, এ দিন তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!