Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫

মহালয়ার আগেই একাধিক পুজোর উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মহালয়ার আগেই একাধিক পুজোর উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শনিবার কলকাতার একাধিক পুজোর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতিবাগান সর্বজনীনটালা প্রত্যয়শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব— একে একে টি নামী পুজোর মণ্ডপের ফিতে কাটলেন তিনি। কিন্তু কোথাও মণ্ডপে ঢোকেননি। প্রতিমার মুখোমুখি হননি। বার বার উচ্চারণ করেছেন একটিই কথা—‘আমি মণ্ডপের উদ্বোধন করছিপ্রতিমার নয়।’ মহালয়ার আগে তিনি তা করবেন না বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আগামিকাল মহালয়া। তর্পণ হবেচণ্ডীপাঠ হবে। দেবীপক্ষ শুরু হলে তবেই মাতৃপ্রতিমার উদ্বোধন করব। এখন শুধু মণ্ডপের থিমআলোকসজ্জা ও সৃজনশীলতাকে সম্মান জানাতে এসেছি।

বিগত কয়েক বছর ধরেই পুজোর অনেক আগেই উদ্বোধনে বের হন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তা নিয়ে প্রতিবাদ ও সমালোচনাও হয় রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের বিরোধীরা যখন এই আগাম উদ্বোধনকে হিন্দু রীতি বিরোধী’ বলে তোপ দাগেতখন মমতা সে বিতর্কে না ঢুকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন— ‘আমি রীতি মেনে চলি। দেবীপক্ষে প্রতিমা উদ্বোধন করি। মাতৃমূর্তি এখনও উন্মোচিত হয়নি।’ শনিবার কলকাতার আকাশ ছিল গুমোট। একে একে মণ্ডপ উদ্বোধনের সময় বৃষ্টিও নামে মাঝেমধ্যে। কিন্তু আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পুজো পরিক্রমায় বের হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে যান হাতিবাগান সর্বজনীনতার পরে টালা প্রত্যয় ও শেষে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। প্রতিটি জায়গাতেই জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে উঠে শুভেচ্ছা জানান সকলকে। বলেন, ‘এই কয়েক দিন বৃষ্টিতে একেবারে ভিজবেন না। প্রচুর ইনফ্লুয়েঞ্জা হচ্ছে। শরীর খারাপ হলে পুজোর আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। ছাতা সঙ্গে রাখবেন।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ীমহালয়ার দিন সকাল থেকে মেঘলা আকাশ থাকলেও দুপুরের পর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে চতুর্থী থেকে নবমী পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতেই পুজোর উদ্বোধন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। ফলে আগে থেকেই ঠাকুর দেখতে শুরু করতে পারবেন অনেক মানুষ। মণ্ডপ উদ্বোধনের পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী মুখ খোলেন সাম্প্রতিক বাঙালি হেনস্থার অভিযোগ নিয়েও। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলা ভাষায় কথা বললেই যদি বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়তা হলে আমাদের জায়গা কোথায়আমি সব ভাষাকেই সম্মান করি। সবাই যেন নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসে। কিন্তু ভাষার ভিত্তিতে কারও প্রতি অত্যাচার বরদাস্ত করা যায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করেন দক্ষতার জোরে। তাঁদের ট্যালেন্ট আছে বলেই ওঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। আবার বাংলায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাইরের রাজ্য থেকে এসে কাজ করেন। ভারত বহুত্বের দেশ। এখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য।’ রাজনৈতিক মহলের মতেশুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক হিন্দুবিরোধী’ মন্তব্যের পরোক্ষে জবাব দিয়েছেন মমতা।

এ বছরও মুখ্যমন্ত্রীর পুজো উদ্বোধনের ব্যস্ততা তুঙ্গে। মমতা নিজেই জানিয়েছেনপ্রায়  হাজার পুজোর উদ্বোধন করবেন তিনি— কোথাও সরাসরি হাজির থেকেকোথাও ভার্চুয়াল মাধ্যমে। রবিবার তিনি যাবেন দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুজোয়— নাকতলা উদয়ন সংঘ৯৫ পল্লিযোধপুর পার্কবাবুবাগান এবং চেতলা অগ্রণীযেখানে চক্ষুদানেও অংশ নেবেন। সোমবার২২ সেপ্টেম্বর তিনি যাবেন আলিপুর সর্বজনীনচেতলা কোলাহল গোষ্ঠীবেহালা নতুন দলবড়িশাহরিদেবপুর ৪১ পল্লিবসুপুর তালবাগান ও শীতলা মন্দিরগড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাব এবং কালীঘাট মিলন সংঘে। মঙ্গলবার২৩ সেপ্টেম্বরের তালিকায় রয়েছে মুদিয়ালিশিবমন্দিরসমাজসেবীবালিগঞ্জ কালচারালত্রিধারাএকডালিয়াসিংহী পার্ক৬৬ পল্লিবডামতলাআদি বালিগঞ্জ সহ একাধিক পুজো। সব মিলিয়ে একদিকে মণ্ডপ উদ্বোধনের উৎসবঅন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা। তার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তাউৎসব হোক আনন্দেরবিভাজনের নয়। আর সে বার্তাই বয়ে আনবে দেবীপক্ষআস্থা ও ঐক্যের শক্তি নিয়ে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!