Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জানুয়ারি ২৮, ২০২৫

৪৮তম বইমেলা উদ্বোধন করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিটাল জমানায়ও বাঙালির বইপড়া অভ্যাস অব্যাহত। বই আমাদের প্রেরণা, মেলা আমাদের গর্ব।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৪৮তম বইমেলা উদ্বোধন করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিটাল জমানায়ও বাঙালির বইপড়া অভ্যাস অব্যাহত।  বই আমাদের প্রেরণা, মেলা আমাদের গর্ব।

৪৮তম বইমেলা উদ্বোধন করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিটাল জমানায়ও বাঙালির বইপড়া অভ্যাস অব্যাহত। বই আমাদের প্রেরণা, মেলা আমাদের গর্ব।

২৯ বছর পর এই প্রথম গরহাজির বাংলাদেশ। কেন কেন? উঠে আসছে প্রশ্ন। তবু উল্লসিত তারুণ্য জড়িয়ে থাকবে বাঙালির যুক্তিময় ভাবাবেগকে।

শুরু হলো কলকাতার ঐতিহ্যবাহী, ৪৮ তম বইমেলা । মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বের অন্যতম সেরা বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মেলা চলবে ২৮ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি। জনসমাগমে সর্বোচ্চ মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন – বই আমাদের প্রেরণা, বই আমাদের দিশা। বইমেলা আমাদের গর্ব। বাংলার বইমেলা দেশের মধ্যে সবদিক থেকেই শ্রেষ্ঠ।’ এদিন নিজের তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন তিনি।

আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান। উপচে পড়া ভিড়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে মেলা প্রাঙ্গনে হাজির বাংলার গণমুখ সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের মিলন মেলা প্রাঙ্গণে। ৪৮ বার হাতুড়ি ঢুকে মেলার সূচনা করলেন মুখমন্ত্রী। আগামী ১২ দিন জুড়ে, প্রত্যহ দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মেলা চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চেই নিজের তিনটি বই, — ‘লিপিবদ্ধ কিছু কাজ’, ‘Salute 2’, এবং ‘বাংলার নির্বাচন ও আমরা’ -এর মোড়ক উন্মোচন করলেন জননেত্রী। বেজে উঠলো হাজার হাজার করতালি। এরপরই ‘বই শুভেচ্ছা’ জানালেন বই পড়ুয়া, লেখক আর মেলা সংগঠকদের।

উদ্বোধনী মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত ডক্টর ফিলিপ আকারমান, গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়, সাধারণ সম্পাদক সুধাংশুশেখর দে, একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, পুরপ্রধান, লেখক এবং শিল্পীরা। এবার বইমেলার থিম কান্ট্রি জার্মানি। তাই জার্মানির লেখক আর প্রকাশকদের উপস্থিতি ছড়িয়ে থাকবে মেলা প্রাঙ্গনে। এছাড়াও আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, পেরু, আর্জেন্টিনা সহ বহু দেশের আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশকরা।

মেলার প্রধান গেট তৈরি হয়েছে ঋত্বিক ঘটক-সলিল চৌধুরীর নামে। গ্যেটে, ম্যস্কমুলার, জীবননানন্দ ও নজরুলের নামাঙ্কিত তোরণ নজর কাড়বে মেলাময় জনস্রোতের। থিম কান্ট্রির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেলার বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ আলো পড়বে রিলকে, ব্রেকট, কাফকা, ম্যক্স মুলার -এর মতো শাশ্বত সত্ত্বায় । আক্ষেপের বিষয় ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম কলকাতার বইমেলায় গড়হাজির বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন। প্রতিবছর ওপার বাংলার, প্রকাশক, লেখক, পাঠক আর চিত্রকররা মেলাপ্রাঙ্গন মাতিয়ে বেড়াতেন এবার সে – দৃশ্য চোখে পড়বে না, শূন্যতায় ঘুরতে থাকবে আফসোস। বাংলাদেশ কেন যোগ দিচ্ছে না, নেই তার অফিসিয়াল ভারসন। মুখে কলুপ বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী অথবা অন্তর্বতী প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক, আবুল বাশারকে ‘লাইফ টাইম অ‍্যাচিভমেন্ট অ‍্যাওয়ার্ড’ দিয়ে সম্মানিত করল গিল্ড । তাঁর হাতে সম্মানটি তুলে দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলাও দেখেছি। দেশের মধ্যে সেরার সেরা কলকাতা বইমেলা, আমাদের হৃদয়ের উৎসস্থল থেকে উৎসারিত এক সরণি। এই মেলাকে আমরা বলি বইবৃক্ষ। বৃক্ষ যেমন হাজার হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, নিঃশব্দে, কখনও পাতার শব্দ শুনি। বইও তেমনি শব্দ শোনায়, কথা বলে, দেখতে পায়।’ ডিজিটাল জমানাতেও বাঙালির বই পড়ার আগ্রহ কমেনি। বই বিক্রি, বইমেলায় ভিড় নিয়ে আমি আশাবাদী। ‘যতই ডিজিটাল আসুক, জনপ্রিয় হোক, বইয়ের জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না। যে বাড়িতে বই সাজানো থাকে না, সে-বাড়িটিকে কীরকম যেন লাগে। বই সাজানোর জন্য নয়, হৃদয়ের ডেকোরেশনের জন্য জরুরি। তাই বইমেলাকে এত ভালবাসি। সামনেই সরস্বতী পুজো। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি বইয়ের উপাসনাও যেন এখানে হয়। ডিজিটাল যুগ হলেও গতবছর এরা ব্যবসা করেছিল ৩০ কোটি টাকার বেশি। ২৭ লক্ষের অধিক মানুষ মেলায় এসেছিলেন। আমার মনে হয় এবছর ৫০ লক্ষ – এক কোটিও অতিক্রম করতে পারে।’ প্রসঙ্গত অভ্যস্ত ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ভাষা, সীমান্ত, সংস্কৃতি আলাদা হতে পারে। কিন্তু মানবিকতা এক এবং অভিন্ন। এজন্যই আমাদের অনুরোধ, বই নিয়ে হাসুন। বই কিনুন। বইকে ভালোবাসুন।’

গতবারের মতো এবারের বইমেলায় ১০৫০টি স্টল থাকছে। ভারতবর্ষের বহু রাজ্য থেকে প্রকাশনা সংস্থা হাজির হয়েছে। নিরপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নিযুক্ত থাকবেন দেড় হাজারের অধিক পুলিশ। দমকল বিভাগ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তারা মেলার উপর অহরহ নজরদারি চালাবেন। মেলায় যাওয়ার জন্য পরিবহন ক্ষেত্রে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বইমেলার মাঠে পছন্দের স্টলটির খোঁজে গোলকধাঁধায় পাক খাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই দিতে গিল্ডের কর্মকর্তারা বিশেষ অ্যাপ ব্যবস্থা চালু করার খবর দিয়েছেন। আইকেবিএফ নামের অ্যাপটি ডাউনলোড করলেই বইমেলার ভিতরের যে কোনো স্টলে যাওয়ার টানা দিক নির্দেশ থাকবে । এ অ্যাপটি বাড়িতে বসেই নিকটবর্তী গেটের নির্দেশ থেকে নির্দিষ্ট স্টলে পৌঁছনোর ধারাবিবরণী শোনাবে।
আগামী প্রায় দুসপ্তাহ উল্লাসিত তারুণ্যে মেতে উঠবে কলকাতা বইমেলা প্রাঙ্গণ। তার রেশ ক্রমাগত জড়িয়ে রাখবে বইপ্রেমী মহানগরকে। আক্ষেপ, অভিযোগ আর সমস্ত নেতিকে নস্যাৎ করে উর্দ্ধে আরো উর্দ্ধে মাথা তুলবে শহরের আবেগ, বুদ্ধি, যুক্তি আর বিবেককে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!