Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২, ২০২৫

এবার ঝাড়গ্রামে ভাষা-মিছিল, ৬ আগস্ট সফর মুখ্যমন্ত্রীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
এবার ঝাড়গ্রামে ভাষা-মিছিল, ৬ আগস্ট সফর মুখ্যমন্ত্রীর

শান্তিনিকেতনের পর, বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এবার জঙ্গলমহলের অরণ্যশহর ঝাড়গ্রামে প্রতিবাদের বার্তা বয়ে নিয়ে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ আগস্ট ঝাড়গ্রামে পৌঁছে রাজবাড়ি মোড় থেকে সার্কাস ময়দান পর্যন্ত ভাষা-মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন তৃণমূল নেত্রী। সে নিয়ে এই মুহুর্তে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বদের প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রশাসনিক বৈঠক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জনজাতি সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা, সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা প্রশাসন এবং শাসকদলের অন্দরে।

‘বিশ্ব জনজাতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ আগস্ট থেকে ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ৩ দিনের বিশেষ অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সাঁওতালি, মুন্ডা, কুড়মি সমাজের সংস্কৃতি, লোকনৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে আদিবাসী ঐতিহ্য। এছাড়াও কয়েকটি প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। জেলার ৪ বিধায়ক—দুলাল মুর্মু, বীরবাহা হাঁসদা, খগেন্দ্রনাথ মাহাতো ও দেবনাথ হাঁসদা ইতিমধ্যেই ঝারগ্রামে তৃণমূলের প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচির খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মমতা শোভিত অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

তবে শুধু অনুষ্ঠানমুখর আবহ নয়, বাংলা ভাষার উপর আগ্রাসনের প্রতিবাদে, মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জ্ঞাপনে পথে নামবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর একের পর এক আক্রমণ চলেছে। ভাষাগত কারণে পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ‘ভাষা আর সংস্কৃতি রক্ষার ডাক দিয়েছেন দলনেত্রী। বাংলা ভাষার উপর বহিরাগত আক্রমণ ও আদিবাসী সংস্কৃতির অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এবার উঠবে অরণ্য শহর ঝাড়গ্রাম থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গলমহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’ এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরকালে মাওবাদী তৎপরতার আশঙ্কায় সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম লাগোয়া এলাকায় চলছে বাড়তি টহল। জেলার পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে সমস্ত নিরাপত্তাকর্মী ও গোয়েন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’ রাজ্যের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও সমন্বয় রেখে চলেছে জেলা পুলিশ।

ঝাড়গ্রামের এর আগে ৫ অগস্ট হুগলির প্লাবিত অঞ্চল, আরামবাগ, গোঘাট ও খানাকুলে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, ডিভিসি-র লাগাতার জল ছাড়ার ফলে প্লাবিত হয়েছে হুগলি, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমানের একাধিক নিচু এলাকা। মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্লাবনের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিতে পারেন। ঝাড়গ্রামের কর্মসূচির পর উত্তরবঙ্গেও একই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। শিলিগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং, ভিন রাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিজ্ঞতা শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী। শাসকদলের দাবি, এ সমস্ত কর্মসূচি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাজ্যসরকারের প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা উচিত। তবে, রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, বিধানসভা ভোটের আগে এই ‘ভাষা-আন্দোলন’কে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নতুন করে জনমত তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। বিজেপির হাত থেকে বাংলা ভাষা ও জনজাতি সংস্কৃতি রক্ষা করতে হবে, এ বার্তায় জেলাসফরগুলিতে জনমানসে গেঁথে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!