- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
ডিএ-র জট কাটাতে নবান্নে ‘মহাবৈঠক’, ৩০ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মুখোমুখি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ
তৃণমূলের সরকারের আমলে দীর্ঘ আন্দোলন, আদালতের লড়াই, তর্ক-বিতর্ক, এরপর ক্ষমতার পালাবদল— সব কিছুর পর অবশেষে ডিএ ইস্যুতে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে রাজ্য সরকার ও আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন। আগামী ৩০ মে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি-র সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), সপ্তম পে কমিশনের বাস্তবায়ন, এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা ‘শাস্তিমূলক বদলি’— এই তিন ইস্যুই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে বলে খবর।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বৃহস্পতিবার জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে। শুধু ডিএ নয়, কর্মচারীদের উপর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বঞ্চনা ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের বিষয়ও আমরা তুলে ধরব।’ তাঁর দাবি, বহু সরকারি কর্মচারী এখনো বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণ টাকা হাতে পাননি। ফলে সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা হলেও কর্মচারীদের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় নতুন সরকার। নির্বাচনের আগে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম বড়ো প্রতিশ্রুতিই ছিল ক্ষমতায় এসে দ্রুত কেন্দ্রীয় হারে ডিএ ও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা। ভোটপ্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দলের একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করেছিলেন, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালু হবে। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোলেও ডিএ নিয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ থেকেই গিয়েছে।
রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকার শুরুতেই সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটতে চাইছে না। কারণ, গত কয়েক বছরে ডিএ আন্দোলন কার্যত রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে পরিণত হয়েছিল। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায় লড়াই। পথে নেমে আন্দোলন, অবস্থান, ধর্মঘট— সব মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছিল। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, সে আন্দোলনে সামিল হওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবেই বহু কর্মচারীকে বাড়ি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে বদলি করা হয়েছিল। কারও কারও ক্ষেত্রে সেই দূরত্ব ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছয় বলেও দাবি সংগঠনের। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট, আন্দোলনের মুখগুলিকে ছত্রভঙ্গ করা এবং কর্মচারীদের মধ্যে ভয় তৈরি করা। এ বদলির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থও হন বহু সরকারি কর্মী।
যৌথ মঞ্চ সূত্রের খবর, ৩০ মে-র বৈঠকে শুধু বকেয়া ডিএ-র টাকা কবে এবং কী ভাবে মেটানো হবে, সে প্রশ্নই নয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হওয়া বদলি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার দাবিও জানানো হবে। পাশাপাশি, সরকারি স্তরে দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান আন্দোলনকারীরা। নবান্নের তরফে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনিক মহলের ইঙ্গিত, মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিষয়টির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। তাই আইনি টানাপড়েন বা নতুন করে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে চাইছে সরকার।
❤ Support Us





