- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৩, ২০২৬
শ্রাবণে শিবভক্তদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ, প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি; রথযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে প্রশাসন
রথযাত্রা ও শ্রাবণ মাসের পুণ্যার্থীদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রথযাত্রার আগে বিধায়ক, জেলাশাসক এবং প্রশাসনের সর্বস্তরের আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই রথযাত্রা উৎসব পালনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং সরকারিভাবে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হবে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যপূর্ণ রথযাত্রা মেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেবা কেন্দ্র তৈরি করা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পরিচালনায় এই সেবা কেন্দ্রগুলি চালানো হবে। সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটি, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ভক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হবে।
রথযাত্রা কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা নিয়েও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ রথের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম বছরে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ভুলত্রুটি থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে। আগামী দিনে আরও নির্ভুল তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার ধারণ করবে।
ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির উন্নয়ন নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বাজেটে থাকা তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্পের আওতায় প্রাচীন মঠ ও মন্দিরগুলির সংস্কার এবং সেগুলিকে হেরিটেজের আওতায় আনার কাজ করা হবে। আগামী দুই বছরে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শ্রাবণ মাসের শিবভক্তদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হুগলির তারকেশ্বর ধাম, জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং জয়ন্তী এলাকার একটি শিব মন্দির।
তারকেশ্বরগামী পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প, ভক্তদের বিশ্রামের জায়গা এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জল ঢালতে যাওয়া পুণ্যার্থীদের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। শিবভক্তদের সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
চলতি বছর ১৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে তারকেশ্বর ধামে যাবেন। এছাড়াও ১৬ জুলাই কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রা উৎসবেও উপস্থিত থাকবেন তিনি।
❤ Support Us





