- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৩, ২০২৬
গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হতেই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, অবিলম্বে স্থগিতাদেশের দাবি; চলতি সপ্তাহেই হতে পারে শুনানি
রাজ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’, যা সাধারণভাবে ‘গুন্ডাদমন আইন’ নামে পরিচিত। আইন কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়েরের অনুমতি মিলেছে। মামলায় আইনের উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশের আবেদন জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
সিপিএম নেতা ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এই জনস্বার্থ মামলার আবেদন করেন। তাঁর আবেদন গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী-র ডিভিশন বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।
সিপিএম নেতা ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এই জনস্বার্থ মামলার আবেদন করেন। তাঁর আবেদন গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী-র ডিভিশন বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। পরবর্তীতে তা আইনে পরিণত হয় এবং রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ জুলাই থেকে সারা রাজ্যে কার্যকর করা হয়।
নতুন আইনে দুষ্কৃতী দমন এবং আইনশৃঙ্খলা আরও কঠোর করার লক্ষ্যে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আইনে একটি কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ পর্যন্ত ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা ধার্য করতে পারবে।
তবে আইন কার্যকর হওয়ার পরই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে একাধিক সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলাকারী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আইনটির কিছু ধারা সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই আইনটির উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ জারি করার আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার এই আইনকে দুষ্কৃতী দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুষ্কৃতীরাজ খতম করতে কড়া আইন লাগু হচ্ছে। সমাজে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় থাকবে। আজ থেকে গুন্ডাদের দাপট উধাও হবে।”
এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের আসন্ন শুনানির দিকে। আদালত এই আইনের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
❤ Support Us






