- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ৬, ২০২৬
বারুইপুরে নাবালিকা হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিন, মঙ্গলবার বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
বারুইপুরে নাবালিকা খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার গ্রেফতার। এর ফলে এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল তিন। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে সোমবার বারুইপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই আনন্দ সর্দারকে খুঁজছিল পুলিশ। বারুইপুরের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। তারা অভিযুক্তদের খোঁজে রবিবার রাতভর তল্লাশি চালায়। রবিবারই এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার সকালে ধরা পড়েন আরও এক অভিযুক্ত। তার পর বেলার দিকে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া, কয়েক জনকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বাকি দুই ধৃতের নাম প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার।
আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে পুলিশ সুপারের দফতরে যাবেন, মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান,”এই ঘটনায় যদি পুলিশের কেউ জড়িত থাকে তাদের দরজা দেখানো হবে। ঘটনার দিন এলাকায় যে চালানো হয়েছে তাতে ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাউকে ছাড়া হবে না।”
বারুইপুরের ঘটনায় দোষীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যে নিহত কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। কিশোরীর বাবাকে মঙ্গলবার দুপুরে ডাকা হয়েছে ভবানীভবনে। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনায় তিনটি মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। খুনের পাশাপাশি গণপিটুনিতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু এবং পুলিশকে মারধরের পৃথক মামলা হয়। শুভেন্দু সোমবার জানিয়েছেন, মামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে। রেললাইন অবরোধের ঘটনাতেও পৃথক মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা নাবালিকা খুনের মামলাতেই অভিযুক্ত। শুভেন্দু বলেন, ‘‘চারটি মামলা হয়েছে। একটি জঘন্যতম অপরাধের মামলা ছাড়া তিনটি মামলা হয়েছে। বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিচার চেয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘পরিবারের তরফে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তিন জন আটক, যাঁদের সঙ্গে পলাতক দুই আসামির কথোপকথন হয়েছে। আইজি, এসটিএফ কাজ করছে। সরকারের কাছে পরিবার যা যা চেয়েছে, তা করা হচ্ছে। ওঁরা সহযোগিতা চেয়েছেন। পাবেন।’’ তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনই খোলসা করে কিছু বলতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘গণপিটুনির ঘটনায় সাম্প্রদায়িক যোগ ছিল। এখনই কিছু বলব না। যে ভাবে রেললাইন উপড়ানো হয়েছে, অতীত মনে পড়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলন বা কিছু দিন আগে ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলন। সিআরপিএফ-এর দুই জওয়ান আহত। একটা পুলিশের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে।’’ সোমবার ধৃত আনন্দকেই বারুইপুরে নাবালিকা খুনের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হচ্ছে পুলিশ সূত্রে। এসটিএফ, এসওজি-র যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হতে পারে। গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরী। রবিবার পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক সন্দেহভাজনকে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর পরও নাবালিকার দেহ ঘিরে রাস্তা আটকে দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ট্রেন পরিষেবাও থমকে গিয়েছিল তার জেরে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় প্রচুর পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
সোমবার মিত্র ইনস্টিটিউশনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের কাউকে ছাড়া হবে না। এমনকী ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কালকেই ওর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তা পাবেন। আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “রেললাইনে যেভাবে রেলপথকে উপড়ানো হয়েছে, তা দেখে আমাদের ২০১৯ সালের সিএএ বিরোধী আন্দোলন কিংবা কিছুদিন আগের ওয়াকফ সংশোধনী বিল বিরোধী হিংসাত্মক আন্দোলনের অতীত ইতিহাস মনে পড়ছে। হামলায় সিআরপিএফের দু’জন জওয়ান আহত হয়েছেন, পুলিশের গাড়িতে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।” পুরো ঘটনাই যে রাডারে রয়েছে তাও এদিন বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
❤ Support Us







