Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ৯, ২০২৬

‘একলা চলো’-র নীতিতে কংগ্রেসের বাজি অধীর-মৌসম-ভিক্টর, ১০ আসনের টার্গেট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘একলা চলো’-র নীতিতে কংগ্রেসের বাজি অধীর-মৌসম-ভিক্টর, ১০ আসনের টার্গেট

বঙ্গে এককভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ের ঘোষণা করার পরই কংগ্রেসের তরফে প্রদেশ নেতৃত্বকে স্পষ্ট বার্তা হয়েছিল,  মূল প্রতিপক্ষ বিজেপি। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শুধু নির্বাচনী ময়দান নয়, বিধানসভার অন্দরমহলের সমীকরণও খতিয়ে দেখা হয়। কোথায় শক্ত লড়াই দিয়ে আসন জেতা সম্ভব, তার উপর ভিত্তি করে একটি বিশদ রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যেখানে ১০-১২টি আসনে জয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয়, ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে একাই লড়াই করা হবে। দলের সব অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতাদের নির্বাচনী ময়দানে নামানোর কৌশল নেওয়া হয়, যাতে ভোট শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি আসন জয়ের সম্ভাবনাও জোরদার হয়। প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়েছে অধীর চৌধুরী, মৌসম নুর, নেপাল মাহাতো, মনোজ চক্রবর্তী, আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর)-এর মতো প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক-সহ একাধিক পরিচিত মুখকে। পাশাপাশি প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, মোহিত সেনগুপ্ত, অমল আচার্য, মিল্টন রশিদের মতো নেতাদেরও ময়দানে নামানোর পরিকল্পনা হয়েছে। এদের অনেকেই অতীতে কঠিন লড়াই দিয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছিলেন।

সমীক্ষা অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম— জেলাগুলিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের একাংশের মতে, এই অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্তত ৩-৪টি আসনে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০টি আসন। অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, তিনি নিজে যদি বিধানসভায় প্রবেশ করেন, তাহলে বিরোধী রাজনীতিতে একক আধিপত্য তৈরি করা বিজেপির পক্ষে কঠিন হবে। বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রচারের কেন্দ্রে থাকলেও, অধীরের মতো শক্তিশালী নেতার উপস্থিতি বিরোধী রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য আনতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হল—অধীর, মৌসম, নেপাল মাহাতো, মনোজ চক্রবর্তী, শুভঙ্কর সরকার, ভিক্টরদের মতো নেতারা বিধানসভায় থাকলে রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির একমুখী ‘গৈরিকীকরণ’ কিছুটা হলেও রোখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ‘একঘেয়ে’ ও ‘অযৌক্তিক’ বিরোধিতার পরিবর্তে আরও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক আলোচনা সামনে আসবে, যা কংগ্রেসকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে। তবে দলের অভ্যন্তরে এই রিপোর্ট নিয়ে মতভেদও রয়েছে। প্রদেশের এক শীর্ষ নেতা মনে করেন, ১০-১২টি আসনের সম্ভাবনার হিসাব বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, সর্বোচ্চ ৫টি আসন জয়ের দাবিই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এর বেশি আসনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা উল্টে বিজেপিরই লাভ হতে পারে।

এই আশঙ্কার পিছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, কংগ্রেসের বড়ো শক্তি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক। ওই ভোট যদি ভাগ হয়ে যায়, তাহলে তৃণমূলের ক্ষতি হতে পারে, যার সরাসরি সুবিধা পেতে পারে বিজেপি। কারণ সংখ্যালঘু ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূলের দিকে যায়, আর একটি ছোট অংশ বামেদের সমর্থন করে। সব মিলিয়ে, কংগ্রেসের এই একলা লড়াই ও নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করার কৌশল বঙ্গে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!