Advertisement
  • এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • অক্টোবর ১০, ২০২৫

‘নোটবন্দির ধাক্কায় ডুবেছে ব্যবসা, ঋণ পরিশোধে অক্ষম’— ৬০ কোটির প্রতারণা মামলায় সাফাই রাজ কুন্দ্রার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘নোটবন্দির ধাক্কায় ডুবেছে ব্যবসা, ঋণ পরিশোধে অক্ষম’— ৬০ কোটির প্রতারণা মামলায় সাফাই রাজ কুন্দ্রার

আইনি বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না রাজ কুন্দ্রা এবং শিল্পা শেট্টির জীবনে। প্রতারণাআর্থিক অনিয়ম এবং তদন্ত— এই তিনে মিলে প্রবল চাপে তারকা দম্পতি। এদিন মুম্বই পুলিশকে রাজ কুন্দ্রা জানিয়েছেন, ‘নোটবন্দির ধাক্কায় ব্যবসার ভয়াবহ ক্ষতিআর তাতেই ৬০ কোটি টাকার ঋণ শোধ করা সম্ভব হয়নি।’

অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখার (ইওডব্লিউ) তদন্তকারীদের কাছে বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ী দাবি করেনতাঁর সংস্থা বেস্ট ডিল টিভি প্রাইভেট লিমিটেড’ মূলত বৈদ্যুতিন ও গৃহস্থালির পণ্য কেনাবেচা করত। কিন্তু ২০১৬-র নভেম্বরে কেন্দ্রের ঘোষিত নোটবন্দির পরে সংস্থার ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলতবাজার থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছিলতা আর শোধ করা সম্ভব হয়নি। এ প্রতারণা মামলায় ইতিমধ্যেই ২ বার তাঁকে জেরা করেছে ইওডব্লিউ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেনপ্রয়োজন পড়লে আবার ডাকা হতে পারে কুন্দ্রাকে।

অভিযোগ, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ব্যবসায়ী দীপক কোঠারিকে প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ কোটি টাকা লগ্নি করান কুন্দ্রা ও তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি। বলা হয়, ওই টাকা ‘বেস্ট ডিল টিভি’ সংস্থার ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, ওই টাকা মূলত ব্যবহৃত হয়েছে তাঁদের ব্যক্তিগত খরচে। দীপকের দাবি, সংস্থার ৮৭ শতাংশ শেয়ার ছিল শিল্পার নামে। তাঁর কাছ থেকে মোট ৭৫ কোটি টাকার ঋণ চাওয়া হয়েছিল, যেখানে বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদের প্রতিশ্রুতি ছিল। কর ফাঁকি এড়াতে বিনিয়োগের আকারে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হন তিনি। শুরু হয় ধাপে ধাপে বিনিয়োগ। প্রথম দফায় ২০১৫-র এপ্রিল মাসে ৩১.৯৫ কোটি টাকা, তার পর সেপ্টেম্বরে ফের কিছু টাকা এবং ২০১৫-র জুলাই থেকে ২০১৬-র মার্চ পর্যন্ত আরও ২৮.৫৪ কোটি টাকা— সব মিলিয়ে মোট ৬০.৪৮ কোটি টাকা লগ্নি করেন দীপক। শুধু স্ট্যাম্প ডিউটির খরচই হয়েছিল ৩.১৯ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন শিল্পা শেট্টি নিজেই। কিন্তু ২০১৫-র সেপ্টেম্বরেই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পরে সংস্থাটি দেউলিয়া ঘোষিত হয়। যদিও শিল্পার দাবি, তিনি সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা হলেও, কোনো রকম ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা ছিল না। তদন্তকারীরা গত ৪ অক্টোবর শিল্পাকে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁর মুম্বইয়ের বাসভবনে।

এ মামলায় কুন্দ্রা ও শিল্পার বিরুদ্ধে ‘লুক আউট’ সার্কুলার জারি করেছে পুলিশ। সেই নির্দেশ স্থগিত রাখতে সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন আলোচিত দম্পতি। তাঁদের যুক্তি, বিদেশে বেশ কিছু পেশাগত দায়িত্ব ও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রতারণা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা অবস্থায় বিদেশ যাত্রার অনুমতি দেওয়া যায় না। প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি গৌতম আঙ্কহাদের ডিভিশন বেঞ্চ ভৎসোনার সুরে বলেছে, ‘পুরো ৬০ কোটি টাকা জমা দিন, তারপরই আমরা আপনার আবেদনের কথা ভাবব।’ আদালতে কুন্দ্রাদের আইনজীবীর দাবি, শুধুমাত্র ফুকেট সফরটি ছিল অবকাশ যাত্রা, বাকি সফরগুলি পেশাগত প্রয়োজনে। আপাতত আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ওই মামলার শুনানি স্থগিত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ততদিনে যদি পুরো টাকা জমা দেওয়া না হয়, তা হলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে রাজ ও শিল্পাকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!