Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৫

নাগরিকত্বের আগেই ভোটার তালিকায় নাম ছিল সনিয়া গান্ধীর? আদালতে বিজেপির মামলা খারিজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নাগরিকত্বের আগেই ভোটার তালিকায় নাম ছিল সনিয়া গান্ধীর? আদালতে বিজেপির মামলা খারিজ

‘নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে’ এমন অভিযোগে প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করার দাবি খারিজ করল রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ে পরিষ্কার বলা হলো, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। এরপরই মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, ফলে বিহার নির্বাচনের আগে বড়ো ধরনের স্বস্তি পেলেন সনিয়া ও রাহুল গান্ধী।

বিজেপির আইটি সেল চিফ অমিত মালব্যের অভিযোগ ছিল, ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারি বাসভবনের ঠিকানায় ভোটার তালিকায় সনিয়ার নাম ওঠে। অথচ তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালের এপ্রিল মাসে। আদালতে অমিতের পক্ষে আবেদনকারী বিকাশ ত্রিপাঠীর দাবি, এ ঘটনা সরাসরি প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল। ১৯৮০ সালে সনিয়ার নাম তালিকাভুক্ত হওয়া বেআইনি। তিনি আরো দাবি করেন, ১৯৮২ সালে নির্বাচন কমিশন জনমতের চাপে তাঁর নাম মুছে দেয়। তবে ১৯৮৩ সালে, নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আবার নাম যুক্ত হয়। এ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আবেদনকারীরা। মালব্য ছাড়াও বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুরও একই দাবি করেছেন।

এই প্রসঙ্গেই কয়েক সপ্তাহ আগে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরনো ভোটার তালিকার কিছু নথি প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছিলেন, ‘’১৯৮০ সালেই গান্ধী পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সনিয়ার নামও ভোটার তালিকায় ছিল। নাগরিকত্ব না পেয়েও ভোটার হওয়া স্পষ্ট বেআইনি পদক্ষেপ।’ তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৩ সালে পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াও নিয়মবিরুদ্ধ। দিল্লির আদালতে পিটিশন দায়ের হয়েছিল ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৫(৪) ধারায়। আবেদনকারীর দাবি ছিল, আদালত পুলিশের কাছে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিক। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘এ ক্ষেত্রে অপরাধমূলক তদন্তের মতো কোনোই ভিত্তি নেই।’ এদিকে আদালতে অভিযোগ খারিজ হওয়ার পর কংগ্রেস নেতৃত্ব বিজেপির উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়েছে। দলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বারবার পুরনো কাগজ ঘেঁটে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আসল ইস্যু থেকে মানুষের মন ঘোরাতেই এ সব নাটক।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, আদালতের রায় কংগ্রেসের কাছে নিঃসন্দেহে বড়ো স্বস্তি। গত কয়েক মাস ধরে বিজেপি ‘ভোট চুরি’ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব বিরোধীদের পালটা দিতে চাইছিল। সনিয়া ইস্যুটি তুলে ধরে বিজেপি নেতৃত্ব চেয়েছিল পুরনো বিতর্ক নতুন করে উসকে দিতে। কিন্তু আদালতের এ রায় তাদের কৌশলকে খানিকটা হলেও ব্যর্থ করেছে। অন্য দিকে, কংগ্রেসের দাবি, ‘ভোট চুরি করে সরকার গড়েছে মোদি-শাহরা এখন ধরা পড়বার ভয়ে ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিজেপি’। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে। তাই এ মামলার রায় শুধু সনিয়া গান্ধীর জন্যই স্বস্তি নয়, বরং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কাছে এক রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল একাংশের।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!