Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ১০, ২০২৬

‘নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’— ‘এসআইআর’ মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের। পরবর্তী শুনানি ১৩ এপ্রিল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না’— ‘এসআইআর’ মামলায় তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের। পরবর্তী শুনানি ১৩ এপ্রিল

পশ্চিমবঙ্গে ‘এসআইআর’-এ বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী হবে, এ নিয়ে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে বিতর্ক। এ আবহেই শুক্রবার ফের বিষয়টি উত্থাপিত হলো দেশের শীর্ষ আদালতে। মামলার শুনানিতে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার বৃহত্তর সাংবিধানিক পরিসরের বিষয়, এ অধিকার ‘স্থায়ী’, তালিকা ফ্রিজ হলেও সে অধিকার খর্ব করা যাবে না।

এদিন, আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এখনো বহু আবেদন বিচারাধীন। অথচ নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মাত্র দু-টি আবেদন মঞ্জুর হওয়া থেকেই স্পষ্ট, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া করা হচ্ছে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে ভিন্ন সুর। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, ‘একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনের জন্য তালিকা চূড়ান্ত করার শেষ তারিখ থাকেই। কিন্তু তার বাইরেও রয়েছে নাগরিকের একটি স্থায়ী অধিকার, ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে ভোট দেওয়া। আদালত সেই বৃহত্তর কাঠামো নিয়েই ভাবছে।’

কমিশনের তরফে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী জানান, নির্ধারিত সময়সীমার পর তালিকায় সংশোধনের সুযোগ সীমিত। তবে ভোটাধিকার সম্পূর্ণ বিলোপ হয় না। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘কাউকে স্থায়ী ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।’ তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ‘এ মুহূর্তে আদালত কোনোরকম নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।’ আবেদনকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, টি. এস. শিবজ্ঞানম -এর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে কয়েকটি ক্ষেত্রে আবেদন মঞ্জুর করেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, যথাযথ যাচাই ছাড়াই নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। বহু আবেদনকারী বৈধ নথিপত্র, এমনকি পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে আশঙ্কা, আরও বহু বৈধ ভোটার একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন। উত্তরে আদালত জানায়, এ সমস্ত বিষয় আগামী ১৩ এপ্রিল বিশদে বিবেচনা করা হবে।

বাংলার ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার পরিসংখ্যান নিজেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধনের আগে রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। প্রথম খসড়াতেই বাদ যায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম। পরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের বিভিন্ন ধাপে আরও নাম ছাঁটাই হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম তালিকা থেকে মুছে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকা নিয়ে। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে সেই তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরে তার একটি অংশ যুক্ত হলেও, শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। এখন প্রশ্ন, যাঁদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হবে, তাঁরা কি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? এই অনিশ্চয়তাই রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত ভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘নাম যদি পরে ওঠেও, কিন্তু ভোটের পরে ওঠে, তা হলে তো সেই ভোটাধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে।’ বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। প্রশ্নের, উত্তর মিলতে পারে আগামী ১৩ এপ্রিল। তবে, তত দিন পর্যন্ত, তালিকার বাইরে চলে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!