Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫

দিল্লি হাইকোর্টে তীব্র বোমাতঙ্ক, বন্ধ কাজ। আদালত চত্বর খালি করে চলছে জোর তল্লাশি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লি হাইকোর্টে তীব্র বোমাতঙ্ক, বন্ধ কাজ। আদালত চত্বর খালি করে চলছে জোর তল্লাশি

দিল্লি হাইকোর্টে বোমা রয়েছে, শুক্রবার দুপুরে এমনই ইমেল বার্তা পৌঁছতেই আদালত চত্বরে ছাড়াল প্রবল চাঞ্চল্য। মুহূর্তেই বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত বিচারকার্য। বিচারপতি থেকে আইনজীবী, আদালতের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ, খালি করে দেওয়া হয় গোটা প্রাঙ্গণ। হুড়োহুড়ি না হলেও, চাপা আতঙ্ক ছিল চোখে পড়ার মতো।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, বিজয় শর্মা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আসা হুমকি ইমেলটি পাঠানো হয়েছে আরজি অরুণ ভরদ্বাজ নামের এক আদালতকর্তাকে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৮ সালের পাটনার বোমা বিস্ফোরণের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হবে আজ, ‘হলি ফ্রাইডে’ অর্থাৎ শুক্রবারের পবিত্র দিনে। হুমকি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে ডঃ শাহ ফয়জল নামের এক তরুণের কথা। যিনি নাকি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভারতের মাটিতে এই হামলার ছক কষেছেন। ইমেল বার্তায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, ‘আজ দিল্লি হাই কোর্টে বিস্ফোরণ হবে। দুপুরের দিকে বিচারপতির চেম্বারেই বিস্ফোরণ ঘটবে। এর মাধ্যমে বুঝে নিন, আগের হুমকিগুলো মিথ্যে ছিল না।’

হুমকিতে নাম নেওয়া হয়েছে একাধিক রাজনৈতিক নেতারও। দাবি করা হয়েছে, তামিলনাড়ুর এক নেতার উপর এসিড হামলা চালানো হবে এবং এর পিছনে যেসব ‘ভিতরের লোকেরা’ রয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থারাও তা টের পাবে না। সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছে একাধিক নাম, এমনকি দেওয়া হয়েছে একটি ফোন নম্বরও। সত্যভামা সেঙ্গোত্তায়ন নামের এক মহিলার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁর কাছেই নাকি রয়েছে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার ‘ডিকোড’। চিঠিতে রাজনৈতিক রংও স্পষ্ট। ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বংশপরম্পরার রাজনীতি আর দুর্নীতির হাত ধরেই বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে টিকে রয়েছে এই দলগুলি। রাহুল গান্ধীরা যখন ক্ষমতায় যেতে পারেন না, তখন তাঁদের প্রতি ভরসা রাখার কোনো মানে হয় না।’

হুমকি ইমেল পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ, স্পেশাল সেল ও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। হাইকোর্ট চত্বর ঘিরে ফেলা হয় নিরাপত্তা চাদরে। মোতায়েন করা হয় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, চালানো হয় চত্বর জোর তল্লাশি। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত কিছু সন্দেহজনক মেলেনি, তবে হুমকির বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। এক শীর্ষ পুলিশ কর্তার কথায়, ‘আমরা ইমেলটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এর পিছনে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে, না কি সত্যিই বড়সড় ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

জানা যাচ্ছে, ঠিক সে সময় হাইকোর্টে চলছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি। হঠাৎ করেই উঠে যায় বেঞ্চগুলি। বিচারপতিরাও বেরিয়ে আসেন নিজ নিজ চেম্বার থেকে। এরপরই আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে তড়িঘড়ি বাইরে বার করে আনে নিরাপত্তা কর্মীরা। ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে তল্লাশির দ্বিতীয় দফা। কে এই বিজয় শর্মা? কেন এ ধরনের হুমকি-বার্তা তিনি পাঠালেন? আদৌ তাঁর সঙ্গে কোনো জঙ্গি-যোগ রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখছে এনআইএ ও সাইবার সেল। হুমকি যে মেইল আইডি থেকে এসেছে, তা কোথা থেকে পরিচালনা করা হয়েছে, সেটিও খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!