- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ৭, ২০২৬
আশঙ্কা নেই ‘বিশৃঙ্খলার’, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট চালুর নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের
‘নিট’ পরীক্ষা শেষ। ফলে যে কারণ দেখিয়ে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করা হয়েছিল, সে কারণের আর কোনো ভিত্তি নেই। এমন পর্যবেক্ষণেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর নির্দেশ দিল দিল্লি হাই কোর্ট। বিচারপতি স্বরণ কান্ত শর্মার একক বেঞ্চ ‘সিজেপি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দায়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, ‘নিট’ পরীক্ষার আগে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত বিভিন্ন পোস্ট ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সে আশঙ্কা আর বর্তমান নয় বলে আদালত জানিয়ে দেয়।
মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতে জানান, ২১ জুনের নিট পুনঃপরীক্ষার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতেই অ্যাকাউন্টটি সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে তাদের আর কোনো আপত্তি নেই। আদালত কেন্দ্রের এই বক্তব্য নথিভুক্ত করেই বলে, যেহেতু পরীক্ষা শেষ হয়েছে, তাই কেন্দ্রের উত্থাপিত মূল উদ্বেগ আর বহাল নেই। সে কারণেই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের আবেদনও মঞ্জুর হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত কয়েক মাস আগে। চলতি বছরের ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। শুনানির এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘এমন কিছু যুবক রয়েছে, যারা আরশোলার মতো। তারা কোনো চাকরি পায় না, কোনো পেশায় প্রতিষ্ঠা পায় না। পরে কেউ সংবাদমাধ্যমে যায়, কেউ সমাজমাধ্যমে, কেউ আরটিআই কর্মী বা অন্য ধরনের কর্মী হয়ে সকলকে আক্রমণ করতে শুরু করে।’ এহেন মন্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বহু বেকার যুবক এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন বিচারপতির মন্তব্যকে অপমানজনক বলে দাবি করে প্রতিবাদে সরব হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৫ মে আত্মপ্রকাশ করা এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘আরশোলা’কে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হতে থাকে অসংখ্য মিম, গান, পোস্টার আর ব্যঙ্গচিত্র। সামাজিক মাধ্যমে এই প্রচারাভিযান দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনের দাবি, তারা যুবসমাজের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারি জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে আনতেই এই আন্দোলন শুরু করেছে। ২১ মে, অর্থাৎ আত্মপ্রকাশের মাত্র ৫ দিনের মাথায়, ভারতে সিজেপি-র সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি)-র সুপারিশের ভিত্তিতে ‘কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক’ এক্স-কে ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও ‘সিজেপি’-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সরকারের সমালোচনামূলক ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পরও আন্দোলন থেমে থাকেনি। সংগঠনটি ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট চালু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই অ্যাকাউন্টে ২ লক্ষ ২৭ হাজারেরও বেশি অনুসরণকারী জড়ো হয়। একই সময়ে ‘সিজেপি’-র ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসরণকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৬৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। দাবি করা হয়, কয়েক দিনের মধ্যেই সে সংখ্যা ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’র সরকারি ইনস্টাগ্রাম পেজের অনুসরণকারীর সংখ্যাকেও অতিক্রম করে। পাশাপাশি অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণের ফর্মে হাজার হাজার যুবক নাম নথিভুক্ত করেন।
পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নিজের মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যাও দেন। তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণকে প্রসঙ্গের বাইরে তুলে ধরেছে। তাঁর বক্তব্য সাধারণ বেকার যুবকদের উদ্দেশে ছিল না। বরং যাঁরা ভুয়ো বা জাল ডিগ্রি ব্যবহার করে আইন-সহ বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করেছেন, তাঁদের উদ্দেশেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। এমন ব্যক্তিদের তিনি পরে ‘পরজীবী’ বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আইনজীবী, সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যম-সহ বিভিন্ন পেশায় ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের অনুপ্রবেশ নিয়েই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
ডিজিটাল পরিসরের বাইরেও ‘সিজেপি’-র আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে সংগঠনের অবস্থান-বিক্ষোভ টানা ১৮ দিনে পৌঁছেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার একাধিক পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, বিশেষ করে ‘নিট-ইউজি ২০২৬’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের যথাযথ জবাব সরকার দিতে পারেনি। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি কোনো একক সংগঠনের আন্দোলন নয়; শিক্ষা, স্বচ্ছতা আর গণতান্ত্রিক জবাবদিহির দাবিতে দেশজুড়ে যুবসমাজের প্রতিবাদ। আন্দোলনের সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। মঙ্গলবার তাঁর অনশন দশম দিনে পড়েছে। চিকিৎসকদের প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, অনশন শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁর ওজন ৭.৩ কিলোগ্রাম কমেছে। রক্তচাপ নেমে এসেছে ১০২/৬১ মিলিমিটার পারদে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৬৮ মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার। চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্ত্বেও নিজের দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি ওয়াংচুক।
❤ Support Us







