Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ৩০, ২০২৬

ভোটবাক্সে ঘাসফুলেই আস্থা পূর্ব বর্ধমানের তন্তুবায়, পরিযায়ী, মতুয়াদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটবাক্সে ঘাসফুলেই আস্থা পূর্ব বর্ধমানের তন্তুবায়, পরিযায়ী, মতুয়াদের

চাঁদি ফাটা রোদ । পুড়ছে মাঠ-ঘাট । কখন হঠাৎ মধ্যদিনের রক্তনয়ন অন্ধ করে কালবৈশাখী এসে পড়বে ! তাই সাতসকালেই পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভার নিজের নিজের ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়ে ভোট দিয়েছেন ভানুমতী রায়, গৌরাঙ্গ সরকার, রতন বিশ্বাসদের মত মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত লোকজন । পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভার ওইসব মতুয়া-ভোটাররা কোনোরকম দ্বিধা না করেই বললেন, ‘ভোটটা ঘাসফুলেই দিয়েছি । বিজেপি আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে । গত লোকসভা ভোটের মুখে ক্যা পাশ করে নানারকম তথ্য দিতে বলে । এবার দেখছি অনেক মতুয়া ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে । এতদিন বাস করার পর যদি দেশত্যাগী হতে হয়, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে।’ তারপর তর্জনীতে আঁকা ভোটের কালি ছুঁয়ে জানালেন, ‘তবে দিদি (মমতা ব্যানার্জি), আমাদের প্রার্থী (স্বপন দেবনাথ) পাশে আছেন । এখানে সভা করতে এসে বলেও গিয়েছেন, আমাদের কোনও দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই ।’ সেই ‘কৃতজ্ঞতা’ থেকেই কালনা, কাটোয়া, পূর্বস্থলী, জামালপুরের মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু ভোটার, বিশেষ করে মহিলারা ঘাস-ফুলেই ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেন ।

ভোটদানকারী মতুয়া সম্প্রদায়ের মহিলারা মনে করিয়ে দেন মমতাবালা ঠাকুরের রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণের ঘটনাটি । অভিযোগ, হরিচাঁদ, গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে মমতাবালার শপথ নেওয়া আটকে দিয়েছিল বিজেপি সরকার । তারপর প্রশ্ন তোলেন, রামের নামে শপথ নিলে সমস্যা নেই । আর আমাদের আরাধ্য হরিচাঁদ-গুরুচাঁদের নামে শপথ নিলেই সমস্যা ? এই বিজেপির মতুয়া-দরদ ?

কাটোয়া ও পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভাজুড়ে মতুয়াদের পাশাপাশি বহু তন্তুজীবীর বাস । এলাকার ঘোড়ানাশ, মুস্থুলি, আমডাঙা, নসরৎপুর, নাদনঘাট, নিমতলা, শ্রীরামপুর, ধাত্রীগ্রাম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার সিংহভাগ বাসিন্দার রুটি-রুজি হল তাঁত । সমুদ্রগড়ের পদ্মা চৌধুরি, ধাত্রীগ্রামের গৌর বসাকরা জানালেন, ‘মমতাদিদি আমাদের জন্য কী না করেছেন ! বিনা পয়সায় তাঁতযন্ত্র দিয়েছেন। উৎপাদিত সামগ্রী সরাসরি কেনার ব্যবস্থা করেছেন । বাম জমানায় মুখ থুবড়ে পড়া তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছেন ।’ সেইসঙ্গে কেন্দ্র সরকারের সমালোচনাও শোনা গেল তাঁতিদের মুখে । বলছিলেন, ‘কেন্দ্র সরকারের ভুল নীতির কারণেই সুতো-সহ তাঁতের যাবতীয় সরঞ্জামের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ।’

বহু কষ্ট করে বহু টাকা খরচ শুধুমাত্র ভোটটা দেওয়ার জন্য ভিন্ রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছেন মঙ্গলকোটের পরিযায়ী রঘুনাথ লেট, মধু বৈরাগী, কেতুগ্রামের হাসিবুল শেখ, নুরশেদ শেখরা । কেউ রিজার্ভেশন পাননি । কারও ছুটি মেলেনি । কাউকে মাইনে কেটে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েও ভোট দিতে ফেরা থেকে নিরস্ত করা যায়নি । কয়েকদিন ধরেই বর্ধমান, কাটোয়া, কালনা স্টেশনগুলিতে ভোট দিতে ফেরা পরিযায়ীদের ঠাসা ভিড় ।

বাংলায় কথা বলায় চরম হেনস্থার শিকার হওয়া পরিযায়ীদেরই একটাই কথা, ‘এই ভোট প্রতিবাদের ভোট, প্রতিশোধের ভোট, প্রতিরোধের ভোট ।’ ভোট দেওয়ার পর নিজের নিজের ঈশ্বরের কাছে মাফ চেয়ে নিয়েছেন বলেও জানালেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাজ করা পরিযায়ীরা । কারণ হিসেবে জানালেন, ‘স্টেশনে ওরা হিন্দুদের গীতা আর মুসলমানদের কোরান ছুঁইয়ে পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার শপথ করিয়ে নিয়েছিল । শপথ পালন করতে না পারায় নাক-কান মুলে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি ।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!