- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৩০, ২০২৬
জাতিগত জনগণনা নিয়ে টানাপোড়েন, বিলম্ব নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ বিরোধীদের
জাতিগত জনগণনার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস । দলের অভিযোগ, ঘোষণার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই জনগণনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তার কোনও স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আনা হয়নি । বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন ।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, জনসংযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত, জয়রাম রমেশ জানান, ঠিক এক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল যে আসন্ন জনগণনায় সমগ্র দেশের জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে । কিন্তু তারপর থেকে বিরোধী দল, রাজ্য সরকার বা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি ।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ৫ মে ২০২৫ তারিখে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সেই চিঠিরও কোনও স্বীকৃতি মেলেনি ।
খাড়গে তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন যে জাতিগত জনগণনা সমাজের পিছিয়ে পড়া, বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় এবং একে কোনওভাবেই বিভাজনমূলক বলে দেখা উচিত নয় । তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায় এবং সমতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত জাতিগত জনগণনা অত্যন্ত জরুরি । সেই সঙ্গে তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান ।
কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জয়রাম রমেশ একটি ধারাবাহিক ঘটনার উল্লেখ করেন । তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২১ জুলাই ২০২১ সালে লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন যে সরকার নীতিগতভাবে জনগণনায় জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করবে না । সেই প্রশ্নটি করেছিলেন বিজেপি সাংসদ রক্সা নিখিল খাডসে ।
কিন্তু পরে ২৮ এপ্রিল ২০২৪-এ একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের জাতিগত জনগণনার দাবিকে “আরবান নকশাল” চিন্তাধারার সঙ্গে তুলনা করেন ।
এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে শুধু কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছেই নয়, দেশের মানুষের কাছেও ব্যাখ্যা দিতে হবে — কেন তিনি একসময় এই ধারণাকে “আরবান নকশাল” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, অথচ পরে ৩০ এপ্রিল ২০২৫-এ নিজেই জাতিগত জনগণনার ঘোষণা করেন ।
❤ Support Us





