- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
১৮ জুন রাজ্যসভা ভোট, একই দিনে গণনা ও ফলপ্রকাশ। খাড়্গে, দেবেগৌড়া, দিগ্বিজয়ের অবসরে সংসদে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
সংসদীয় রাজনীতিতে ফের নতুন সমীকরণের আবহ। উচ্চকক্ষে শুরু হতে চলেছে শক্তি-পরীক্ষা। আগামী ১৮ জুন ১০টি রাজ্যের ২৪টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হবে বলে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। একই দিনে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর ২টি শূন্য আসনেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে দেশের ১২টি রাজ্যের ২৬টি আসনে ভোট হতে চলেছে জুনের তৃতীয় সপ্তাহেই।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ এবং গণনা একই দিনে সম্পন্ন হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং তার পরেই শুরু হবে গণনা। বিকেল ৫টার পরে ফলপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ২০ জুনের মধ্যে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বর্তমান রাজ্যসভার সদস্যদের মেয়াদ ২১ জুন থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে। সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই শূন্যপদ পূরণে এই দ্বিবার্ষিক নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যার বিচারে এই নির্বাচন আপাতদৃষ্টিতে নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশেষত, লোকসভা নির্বাচনের পরে রাজ্যসভায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে মরিয়া শাসক এনডিএ এবং বিরোধী ইন্ডিয়া জোট— দু–পক্ষই।
সবচেয়ে বেশি আসনে ভোট হবে অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত এবং কর্নাটকে। ৩ রাজ্যের ৪টি করে রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে ৩ টি করে আসনে ভোট হবে। ঝাড়খণ্ডে ২টি এবং মিজোরাম, মনিপুর, মেঘালয় ও অরুণাচলপ্রদেশে একটি করে আসনে নির্বাচন হবে। রাজনৈতিক মহলের নজর বিশেষ ভাবে কর্নাটকের দিকে। কারণ, সেখান থেকেই অবসর নিচ্ছেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং জনতা দল (সেকুলার)-এর সর্বভারতীয় নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া। মধ্যপ্রদেশ থেকে অবসর নিচ্ছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রভনীত সিং এবং জর্জ কুরিয়ানের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।
নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, ৮ জুন মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই হবে এবং ১১ জুন পর্যন্ত প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করা যাবে। ১৮ জুন ভোটগ্রহণের পর একই দিনেই গণনা হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারে ভোটদানের জন্য শুধুমাত্র রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া নির্দিষ্ট বেগুনি রঙের স্কেচ পেন ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো কলম ব্যবহার করলে সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্কও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের বর্তমান বিধানসভা সংখ্যার নিরিখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের অনুমান, ২৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৬টি আসন এনডিএ জোটের দখলে যেতে পারে। তার মধ্যে বিজেপি একাই পেতে পারে ১২টি আসন। এছাড়া এনপিপি, জেডিএস, এমএনএফ এবং টিডিপি একটি করে আসন পেতে পারে বলে ধারণা।
অন্য দিকে, ইন্ডিয়া জোটের ঝুলিতে যেতে পারে ৫ টি আসন। তার মধ্যে কংগ্রেস ৪টি এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ১টি আসন পেতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের। ওয়াইএসআর কংগ্রেসের দখলে যেতে পারে আরও ৩টি আসন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাতে এনডিএ সব ক–টি আসন জিতে নিতে পারে। কর্নাটকে অন্তত ১টি, রাজস্থানে ২টি এবং মধ্যপ্রদেশে ২টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। ফলে রাজ্যসভায় শাসক জোটের শক্তি আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে নজর রয়েছে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনও। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ওই ২টি শূন্য আসনেও ১৮ জুনই ভোট হবে। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা অজিত পওয়ার রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে আসনটি শূন্য হয়। পরে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। অন্য দিকে, তামিলনাড়ুতে সিভি শণ্মুগম বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যসভার আসন ছাড়েন। ফলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন শুধু সংখ্যার অঙ্ক নয়, আগামী কয়েক বছরের সংসদীয় কৌশল নির্ধারণেও বড়ো ভূমিকা নিতে চলেছে। কারণ, লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও বহু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে রাজ্যসভায় শক্তি বৃদ্ধি এখন শাসক জোটের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার বিরোধীরাও চাইছে উচ্চকক্ষে নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে। সে কারণেই জুনের এই ভোট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজধানীর রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর তৎপরতা।
❤ Support Us







