Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৬, ২০২৬

অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল নথি তৈরির সিন্ডিকেট ! পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩ জায়গায় তল্লাশি ইডির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল নথি তৈরির সিন্ডিকেট ! পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩ জায়গায় তল্লাশি ইডির

অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে বড়সড় অভিযানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মানবপাচার, জাল নথি প্রস্তুত এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের সন্ধানে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট ১৩টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। একই সঙ্গে দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানেও তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের তথাকথিত ‘জাল নথি হাব’, যেখানে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হত বলে অভিযোগ।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি সংগঠিত চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র (এপিক), প্যান কার্ড, ই-শ্রম কার্ড-সহ বিভিন্ন সরকারি নথি জালভাবে তৈরি করে দিত। এই নথির সাহায্যে দালালদের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছে দেওয়া হত অনুপ্রবেশকারীদের।

তদন্তের সূত্রপাত হয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর মানবপাচার বিরোধী তদন্ত থেকে। তদন্ত চলাকালীন কলকাতার এক সন্দেহভাজন চক্রনেতার সন্ধান মেলে। এরপর তদন্তে উঠে আসে উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদে জাল নথি তৈরির একটি বড় সংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আদালতে দাবি করেছে, বাংলা থেকে শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে এই দালালচক্র অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দিচ্ছিল।

ইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম। তদন্তকারীদের সন্দেহ, কিছু ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়াল ব্যবহার করে জাল নথি তৈরির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে ‘ভাড়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারেরও ইঙ্গিত মিলেছে। অভিযোগ, বহু ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মূল আর্থিক লেনদেনকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইডির দাবি, মানবপাচার ও জাল নথি তৈরিকে কেন্দ্র করে বহু কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা গড়ে উঠেছে, যার শিকড় পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত। সেই চক্রের আর্থিক লেনদেন, মূল হোতা এবং সহযোগীদের চিহ্নিত করতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) বাংলাদেশ থেকে নারী ও নাবালিকা পাচারচক্রের তদন্তে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই তদন্তেও আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠিত জাল নথি তৈরির নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব সামনে এসেছিল। বর্তমান ইডি অভিযান সেই তদন্তগুলির সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

তদন্ত এখনও চলছে। ইডি এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও গ্রেফতার বা চূড়ান্ত অভিযোগের কথা ঘোষণা করেনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!