- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১০, ২০২৬
রাজ্যের ৬ জেলার ৬৯ বহুতল আবাসনে বুথের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের
প্রবল আপত্তি জানিয়ে চিঠি পাঠালেও শেষ পর্যন্ত বহুতল আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি উড়িয়ে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, যেসব বহুতল আবাসনে ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেখানে ভোটকেন্দ্র করা হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির চাপে ও ইশারাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
কয়েক দিন আগেই বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা ও শিশির বাজোরিয়া বহুতল আবাসনে বুথ স্থাপনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি তৃণমূলের। দলের বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশন যে বিজেপির বি টিম, তা আবারও প্রমাণিত হল। এখন সিইও দফতর বিজেপির পার্টি অফিসে নিয়ে এলেই হয়।”
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতা-সহ রাজ্যের সাতটি জেলায় মোট ৬৯টি বহুতল আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হবে। তালিকা অনুযায়ী দক্ষিণ কলকাতায় ২টি, উত্তর কলকাতায় ৮টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৫টি, উত্তর ২৪ পরগনায় ২২টি, হাওড়ায় ৪টি, পূর্ব বর্ধমানে ৩টি এবং হুগলিতে ৫টি বহুতল আবাসনে বুথ হবে। কমিশনের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বহুতল আবাসনে বসবাসকারী ভোটারদের ভোটদানের সুবিধা বৃদ্ধি করা। ৩০০ জনের বেশি ভোটার থাকলে তাঁদের আর বাইরের বুথে গিয়ে ভোট দিতে হবে না।
কমিশন আরও জানিয়েছে, আপাতত ৬৯টি বহুতল চিহ্নিত হলেও ভবিষ্যতে এই সংখ্যা দু’-একটি বাড়তে পারে। চূড়ান্ত তালিকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের ধারণা, এর ফলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বহুতল আবাসনে বুথ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আপত্তি আমলে না নিয়েই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে এগোল কমিশন।
অন্যদিকে, এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) শুনানিতে ডাকা হয়েছে অভিনেতা ও সাংসদ দেব এবং ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকে। জানা গিয়েছে, আগামী ১৪ জানুয়ারি দেব এবং ২০ জানুয়ারি মহম্মদ শামি কাটজুনগরের স্বর্ণময়ী স্কুলে এসআইআর শুনানিতে হাজির হবেন।
এছাড়াও নির্বাচন কমিশন বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) দের নতুন কাজের দায়িত্ব দিয়েছে। শুক্রবার তাঁদের মোবাইল অ্যাপে নতুন দু’টি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো ‘কোয়ালিটি চেক অফ ইলেকটর ফটো’, যার মাধ্যমে ২০০২ সালের নথিতে থাকা অস্পষ্ট ভোটারদের ছবি ঠিক করতে হবে। তালিকায় থাকা সাদা-কালো বা ঝাপসা ছবি বদলে নতুন রঙিন ছবি আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ফিচারটি হলো ‘ডিসক্রেপেন্সি ইন ম্যাপিং’, যদিও সেটি এদিন খোলা হয়নি।
এদিকে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের এক ব্যক্তি। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
❤ Support Us







