Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৩০, ২০২৬

নামে-বেনামে ৬০ দলিল, পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের সম্পদ উৎস খতিয়ে দেখছে সিট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নামে-বেনামে ৬০ দলিল, পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের সম্পদ উৎস খতিয়ে দেখছে সিট

ফলতার একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ও তাঁর স্ত্রী রেজিনা ওরফে সারিকা বিবির নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির হদিস পেয়েছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে অন্তত ৬০টি সম্পত্তির দলিল উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে জমি, ফ্ল্যাট, বাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাবর সম্পত্তির দলিল রয়েছে। কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন ওই দম্পতি, সম্পত্তিগুলি বৈধভাবে কেনা হয়েছিল কি না, কেনা হয়ে থাকলে কত টাকায় কেনা হয়েছে এবং সেই অর্থের উৎস কী, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বর্তমানে জাহাঙ্গির খান ও তাঁর স্ত্রী দু’জনেই পৃথক মামলায় গ্রেফতার। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী রেজিনা ওরফে সারিকা বিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্বামীকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় বিক্ষোভ ও তাণ্ডব চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে জাহাঙ্গির বিচারবিভাগীয় হেফাজতে এবং রেজিনা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস জাহাঙ্গির খানকে প্রার্থী করেছিল। দলীয় সূত্রে তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত করা হতো। ভোটের দিন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পুনর্নির্বাচনের দু’দিন আগেই নিজেকে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চরিত্র ‘পুষ্পা’-র সঙ্গে তুলনা করা জাহাঙ্গির ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন।
জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে বেআইনি উপায়ে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে ফলতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা বিধান পাড়ুই। একই অভিযোগ ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীর দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাঙ্গির ও তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে এবং সেই সম্পদের অধিকাংশই অবৈধভাবে অর্জিত।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খানের উত্থান শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমবার ক্ষমতায় আসার প্রায় দু’বছর পর। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ফলতার বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। পরে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ২০২৩ সালের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বও সামলান। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রুত বেড়েছে তাঁর সম্পদের পরিমাণও।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া দলিলগুলির ভিত্তিতে প্রতিটি সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য, অবস্থান, মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই সম্পত্তিগুলির আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সম্পত্তিগুলির আগের মালিক কারা ছিলেন, সেগুলি আদৌ বিক্রি করা হয়েছিল কি না, বিক্রি হয়ে থাকলে কী মূল্যে লেনদেন হয়েছে এবং সেই অর্থের উৎস কী ছিল। অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে এটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, কোনও সম্পত্তি স্বেচ্ছায় বিক্রি করা হয়েছিল, নাকি ভয়ভীতি বা প্রভাব খাটিয়ে দখল বা হস্তান্তর করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সম্পত্তির নথি জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে চলা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমস্ত নথি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!