Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • এপ্রিল ১, ২০২৬

ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু জনগণনা ২০২৬—৩৩টি প্রশ্নে প্রথম ধাপ, চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ ২০২৭-এ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু জনগণনা ২০২৬—৩৩টি প্রশ্নে প্রথম ধাপ, চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ ২০২৭-এ

নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে জনগণনা (সেনসাস) শুরু হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। রেজিস্ট্রার জেনারেল ও দেশের সেনসাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন, ১ এপ্রিল থেকে জনগণনার প্রথম ধাপের কাজ শুরু হচ্ছে। এই ধাপে ৩৩টি প্রশ্নের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে জাত সমীক্ষা (কাস্ট সার্ভে) দ্বিতীয় ধাপে করা হবে, যার পদ্ধতি ও কাঠামো এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রথম ধাপে গণনাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবেন—যেমন বাড়ির নম্বর (পুরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুযায়ী), সেনসাস হাউস নম্বর, মেঝে, দেওয়াল ও ছাদের নির্মাণ সামগ্রী, বাড়ির ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থা। এছাড়া পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা, গৃহকর্তার নাম ও লিঙ্গ, তিনি তফসিলি জাতি, উপজাতি বা অন্য সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত কি না, ঘরের সংখ্যা, বাড়ির মালিকানা এবং বিবাহিত সদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনার তুলনায় দেশের গ্রামসংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০১১ সালে গ্রাম ছিল ৬,৪০,৯৩২টি, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৬,৩৯,৯০২। অন্যদিকে নাগরিক বসতি বেড়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৬ (একটি বৃদ্ধি), জেলার সংখ্যা ১৪৪টি বেড়ে ৬৪০ থেকে ৭৮৪ হয়েছে। উপজেলা বা সাব-ডিস্ট্রিক্টের সংখ্যা ৫৯৯০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০৯২।

মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ আরও জানান, দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ এখনও জনগণনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পশ্চিমবঙ্গকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণনার কাজ সম্পন্ন করার সময় দেওয়া হয়েছে।

এবারের জনগণনায় একটি বড় পরিবর্তন হল ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার। আগে কাগজে তথ্য সংগ্রহ করে পরে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ডিজিটালাইজ করা হত, যার ফলে সময় বেশি লাগত। কিন্তু এবার সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সাধারণ মানুষকে সেলফ-এনুমারেশন বা স্ব-গণনার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে নিজেরাই তথ্য জমা দিতে পারেন। এতে গণনাকারীদের কাজের চাপও কমবে।

এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ফলে অধিকাংশ তথ্য ও পরিসংখ্যান ২০২৭ সালের মধ্যেই প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণনার দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে ধর্ম ও জাতপাত সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে, শুরু হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

তবে লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড—এই চারটি অঞ্চলে দুই ধাপের কাজই ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (NPR) আপডেট করার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই রেজিস্টার চালু হলে দেশের নাগরিকদের একটি সামগ্রিক ডাটাবেস তৈরি করা সম্ভব হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!