- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ২, ২০২৬
সমাজমাধ্যমে লাগাতার হেনস্তা, প্রতিবাদে লালবাজার অভিযান টলিপাড়ার
সমাজমাধ্যমে লাগাতার কটূক্তি, হুমকি ও পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে এ বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা। শুক্রবার, কলকাতা পুলিশের লালবাজারে সাইবার অপরাধদমন শাখার দফতরে হাজির হন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রথম সারির প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতারা। তাঁদের বক্তব্য, অনলাইনে চলতে থাকা এই ‘হেনস্থা-সংস্কৃতি’ সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে, অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিন দুপুরে, লালবাজারে পৌঁছন সদ্য গঠিত স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন শ্রীকান্ত মোহতা, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আবীর চট্টোপাধ্যায়, নিসপাল সিং, রানা সরকার, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, নীলরতন দত্ত, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। লালবাজারের ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরূপ বিশ্বাস। তিনি জানান, ‘দীর্ঘ দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের শিল্পী ও কলাকুশলীদের উদ্দেশে লাগাতার আক্রমণ, অপমান এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করতেই আমরা একজোট হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলা বিনোদন দুনিয়ার অধিকাংশ খ্যাতনামা ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে।
প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাইবার অপরাধদমন শাখার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন টলি-প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, শ্রীকান্ত মোহতা, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, নিসপাল সিং ও রানা সরকার। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুতর অভিযোগ, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শিল্পীদের চরিত্রহনন, বিকৃত ছবি ও তথ্য ছড়ানো, এমনকি পরিকল্পিত ভাবে ছবির রেটিং কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। পিয়া ও স্বরূপ জানান, ‘আমরা নগরপাল ও সাইবার অপরাধদমন শাখার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের সাইবার হেনস্থা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষ আমাদের অভিযোগ মন দিয়ে শুনেছেন এবং কড়া পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’ একই সুর শোনা যায় অন্যদের গলাতেও। শ্রীকান্ত মোহতা ও নিসপাল সিং রানে বলেন, ‘‘হুমকি দেওয়া, প্ররোচনামূলক পরিবেশ তৈরি করা, এ সব আগে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমন প্রকট ভাবে দেখা যায়নি। আমরা চাইছি, এই অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক। প্রশাসন আমাদের পাশে আছে।’
গোটা ঘটনার মধ্যে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ প্রসঙ্গে বার বার উঠে এসেছে অভিনেতা, তৃণমূল সাংসদ দেবের নাম। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরূপ বিশ্বাস সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমরা কেউ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে আসিনি। যাঁরা এই অপসংস্কৃতির নেপথ্যে রয়েছেন, তা সে যেই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পথে আমরা লড়াই করব।’ উল্লেখযোগ্য ভাবে, এ দিন লালবাজারে টালিগঞ্জের বহু তারকা, পরিচালক, প্রযোজক উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি দেবকে। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরূপ জানান, ‘অনেকেই ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি।’ যদিও, এর আগেই দেব নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, লালবাজার অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা আরো ঘনীভূত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বাংলা ছবিকে ঘিরে টিকিট বুকিং অ্যাপে ইচ্ছাকৃত ভাবে রেটিং কমানোর অভিযোগ ওঠে। প্রথমে সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন প্রযোজক রানা সরকার। পরে একই সুর শোনা যায় পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের গলাতেও। এই পরিস্থিতির মধ্যেই টলিউডে স্ক্রিনিং কমিটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈঠক হয়। সে বৈঠকে সকলেই স্ক্রিনিং কমিটির পক্ষে ভোট দিলেও দেব ভোট দেন ‘নোটা’-য়। এরপর থেকেই ‘টলিউড বনাম দেব’ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কারা এই সাইবার হেনস্থা ও ট্রোলের নেপথ্যে, অভিযোগের লক্ষ্যই বা ঠিক কারা, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে লালবাজার অভিযান এক কথা স্পষ্ট করে দিল, সমাজমাধ্যমে চলা এই আক্রমণের বিরুদ্ধে এ বার আর চুপ থাকতে নারাজ বাংলা চলচিত্র জগৎ।
❤ Support Us






