- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১২, ২০২৫
নির্ধারিত সাজা শেষ, তবু বন্দি? সুপ্রিম কোর্টের ধমক— ‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’
নীতীশ কাটারা হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া সুখদেব পালোয়ানকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত কোনো দোষী যখন তাঁর সাজাভোগ করে ফেলেছেন, তখন তাঁকে আর আটক রাখা যায় না। এমনকি ‘রেমিশন’-এরও প্রয়োজন নেই, যা সাধারণত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২০০২ সালে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর মামলায় দোষী প্রমাণিত হন সুখদেব ও আরো ২ অভিযুক্ত। আদালত তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছিল। সে সাজা শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৯ মার্চ। তার পরেও তাঁকে জেলে আটকে রাখায় প্রশ্ন তোলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি বিভি নাগরথণা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ কড়া ভাষায় জানায়, ‘এই মানসিকতা চলতে থাকলে এক দিন সমস্ত আসামির মৃত্যু জেলের ভিতরেই হবে।’ আদালতের প্রশ্ন, সাজা শেষ হওয়ার পরেও কেন তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে? দেশে এমন উদাহরণ যদি আরো থেকে থাকে, তবে তাদেরও অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট সুখদেব পালোয়ানকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিলেও দিল্লি সরকারের সেন্টেন্স রিভিউ বোর্ড তাঁর আচরণকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে তকমা দিয়ে তাঁর মুক্তি আটকে রাখে। এরপর সুখদেব আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত তাঁকে ৩ মাসের জন্য ‘ফারলো’ (অর্থাৎ সাময়িক মুক্তি) মঞ্জুর করে। এদিন, সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, এসআরবি কীভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করল? তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতিরা বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।’ এ দিনের শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অর্চনা পাঠক দাভে যুক্তি দেন, যাবজ্জীবন সাজা মানে সারা জীবনের কারাবাস। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি সম্ভব নয়। পাল্টা, সুখদেবের আইনজীবী সিদ্ধার্থ মৃদুল দাবি করেন, সাজা নির্ধারিত ছিল এবং সময় পূর্ণ হয়েছে। আইনের দৃষ্টিতে তাঁকে আটকে রাখার আর কোনো ভিত্তি নেই। ওয়াকিওবহাল অনেকে মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নজির হয়ে রইল। যারা নির্ধারিত মেয়াদের পরেও সাজা ভোগ করেছেন, তাঁদের মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।
❤ Support Us








