Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ১৯, ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ, ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু । বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ, সকাল থেকে ভাসছে কলকাতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ, ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু । বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ, সকাল থেকে ভাসছে কলকাতা

টানা ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু, যার ফলে সড়কপথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ। একইসঙ্গে পাহাড় ও সমতলের একাধিক এলাকায় ধস, রাস্তা ভেঙে পড়া, গাছ উপড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাহাড় ও সংলগ্ন সমতল এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বালাসন নদীর জলের তোড়ে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ায় নির্মিত বিকল্প অস্থায়ী সেতুটিও ভেঙে যায়। এর ফলে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ভারী বর্ষণ ও মহানন্দা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশে ধস নেমেছে। খারসাং-সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। প্রধান সড়কের উপর বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে, তবে যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।

এর ফলে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিকের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বর্তমানে মিরিক ও দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি ফিরতে পর্যটকদের বিকল্প পথ হিসেবে সুখিয়াপোখরি হয়ে নামতে হচ্ছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে সেই রাস্তাও কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উত্তরবঙ্গ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিল। সেই সময় দুধিয়া সেতু ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বহু মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে থাকলেও মাত্র আট মাসের ব্যবধানে ফের প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল উত্তরবঙ্গ।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। ফলে নদীগুলির জলস্তর আরও বাড়তে পারে এবং নতুন করে ধস বা যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণবঙ্গেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ একাধিক জেলা কার্যত বৃষ্টিতে ভাসছে। সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা বেশি। এছাড়াও হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই বঙ্গেই জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!