- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫
এসবিআই ব্যাঙ্কে দুঃসাহসিক ডাকাতি ! সেনা-পোশাকে ঢুকে ২০ কোটি টাকার সোনা ও নগদ লুট দুষ্কৃতিদের
দুঃসাহসিক ব্যাঙ্ক ডাকাতিতে থরহরি কম্প কর্নাটকের বিজয়পুরা। ২ মাস আগে একই শহরে কানাড়া ব্যাঙ্কে ডাকাতির পর, এবার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শাখায় সশস্ত্র ডাকাতি। সেনার পোশাক পরা ৩ মুখোশধারী দুষ্কৃতী দেশি পিস্তল হাতে ঢুকে পড়ে ব্যাঙ্কে। কর্মীদের মারধর করে চেয়ারে বেঁধে, চোখের সামনে ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে তুলে নিয়ে গেল ৫৮ কেজি সোনা এবং নগদ ৮ কোটি টাকা।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, ঠিক ব্যাঙ্ক বন্ধ হওয়ার মুখে। চাদাচান থানার অন্তর্গত এসবিআই-এর ওই শাখায় তখন কয়েকজন কর্মী ও গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। আচমকা সশস্ত্র ৩ ব্যক্তি ব্যাঙ্কে ঢুকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা সেনার ইউনিফর্ম পরে ছিল। প্রথমেই ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ও কোষাধ্যক্ষকে পিস্তল দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। এরপর একে একে বাকি কর্মীদের চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে ফেলে, কেউ যেন বিপদঘণ্টি বাজাতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও করা হয়। চোখের নিমেষে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় গোটা ব্যাঙ্ক। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘এটা নিছক ডাকাতি নয়, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করে আনা হামলা। ঠিক কোথায় কী আছে, তা তাদের জানা ছিল।’ ম্যানেজারকে দিয়ে ভল্ট খুলিয়ে এক এক করে বের করে নেওয়া হয় গয়না ও টাকা। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার ও নগদ ভরে নেওয়া হয় ব্যাগে। তারপর গাড়ি করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ডাকাতরা ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগানো একটি সাদা রঙের ইকো গাড়ি ব্যবহার করেছিল। ডাকাতির পর তারা সোজা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে পন্ধরপুরের দিকে পালিয়ে যায়। পথে সোলাপুর জেলার এক এলাকায় একটি বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গাড়িটি। স্থানীয়দের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। সেই ফাঁকে গাড়ি ছেড়ে সোনা ও টাকা নিয়ে হাঁটা পথেই গা ঢাকা দেয় তারা। চাদাচান থানার পুলিশ সুপার লক্ষ্মণ নিম্বারগি জানিয়েছেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে তল্লাশি চলছে। কর্নাটক ও মহারাষ্ট্র পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। রাস্তার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পুলিশ ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার জন্য ফুটেজ পরীক্ষা শুরু করেছে। এসবিআই-র পক্ষ থেকে তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দুই মাসে দুই ডাকাতি, একই শহরে! এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। কারণ, ঠিক ২ মাস আগেই বিজয়পুরার কানাড়া ব্যাঙ্কে ৫৯ কেজি সোনা এবং ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা লুট হয়েছিল। সেবারও একপ্রকার সিনেমার কায়দায় ব্যাঙ্কে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পরে সে ঘটনায় ব্যাঙ্কেরই ম্যানেজার-সহ কয়েকজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়, অভ্যন্তরীণ মদত ছিল বলেই প্রমাণ মেলে। ফলে এবারও তদন্তকারীরা ব্যাঙ্কের ভিতরের কোনও যোগসূত্র বা তথ্য পাচার হয়েছে কিনা, সে দিকটিও খতিয়ে দেখছেন। একই শহরে পরপর ২টি বড়ো ডাকাতি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে ব্যাঙ্কগুলির নিরাপত্তা নিয়েও। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ‘ব্যাঙ্কে সেসময় কোনো সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। এতটা দুঃসাহসিক কাণ্ড কী করে এত সহজে হয়ে গেল?’ কেউ কেউ আবার বলছেন, ‘সিসিটিভি থাকলেও, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও সন্দেহ আছে।’
জানা যাচ্ছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তদন্তে পুলিশকে সমস্ত তথ্য দিচ্ছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, ‘গ্রাহকদের সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা সমস্তরকম ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো ডাকাতকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্লু’ তাঁরা পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এটি আন্তঃরাজ্য পেশাদার ডাকাত দলের কাজ, যাদের আগে থেকেও অপরাধমূলক রেকর্ড আছে।
❤ Support Us







