- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৪, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে সতর্ক ভারত, আকাশসীমা সুরক্ষায় রাশিয়া থেকে আরও ৫‘সুদর্শন চক্র’ কেনার উদ্যোগ
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কৌশলগতভাবে আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে ভারত। বৈশ্বিক অস্থিরতার আবহে দেশের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাশিয়ার অত্যাধুনিক S-400 এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেমের আরও ৫টি স্কোয়াড্রন কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব শীঘ্রই ছাড়পত্রের জন্য পাঠানো হবে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে।
রাশিয়ায় নির্মিত S-400, যা ভারতে ‘সুদর্শন চক্র’ নামে পরিচিত, আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে আসা শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম এবং প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বে তা ধ্বংস করতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল কিংবা ব্যালিস্টিক মিসাইল মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর।
উল্লেখ্য, চিনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ৫টি S-400 সিস্টেম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। যদিও বিভিন্ন কারণে সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে, ইতিমধ্যে ৩টি সিস্টেম ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী বাকি ২টি সিস্টেম ২০২৬-২০২৭ সালের মধ্যে সরবরাহ হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তান ও চিনকে নজরে রেখে রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে S-400 মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের ফলে ভারতের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আকাশসীমা কার্যত সুরক্ষার আওতায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে S-400-এর কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত হয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান প্রতিহত করতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় শত্রুপক্ষের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার ঘটনায় এই ব্যবস্থার সক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মহলের অভিমত।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে অতিরিক্ত S-400 মোতায়েনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য করে তুলতেই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে ভারতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
❤ Support Us





