- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫
কাটমান্ডুতে আটকে ৪০০-র বেশি ভারতীয়, ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বিমান পাঠাচ্ছে দিল্লি!
নেপালে চলমান অশান্তির মধ্যে ভারতের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে কেন্দ্র সরকার। কাঠমান্ডু শহরের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, সেখানে আটকে পড়া ৪০০-রও বেশি ভারতীয় নাগরিককে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। সংকট মেটাতে সদ্য ক্ষমতার দখল নেওয়া নেপাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় দূতাবাস। লক্ষ্য একটাই যাতে নিরাপদে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
সোমবার থেকে তুমুল বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে নিরাপত্তার খাতিরে কাঠমান্ডু বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে সেনা। নিরাপত্তার কঠিন বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো চত্বর। বর্তমানে জারি রয়েছে কারফিউ। ফোলে বিপদে পড়েছেন সেখানে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকরা। বিশেষ করে, বেশ কয়েকজন পর্যটক এবং খেলোয়াড়, যেমন ভারতীয় ভলিবল খেলোয়াড় উপাসনা গিল, যাঁরা নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলেন, তাদেরও দুঃখজনক অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। উপাসনা গিলসহ অন্যান্য ভারতীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার জন্য ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করেছেন।
মঙ্গলবার জনরোষের চাপে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁর সরকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং সমাজমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। তারই ফলস্বরূপ, দেশের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কাঠমান্ডু, ললিতপুর এবং ভক্তপুরের বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। বিশেষত, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানালের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা হতবাক করে দিয়েছে বিশ্বকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায়, সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং শুরু হয় সামরিক শাসন।
এদিকে, ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে নেপাল সেনার সঙ্গে আলোচনা চলছে যাতে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে আটকে পড়া নাগরিকদের অন্তত ফিরিয়ে আনা যায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি বিশেষ বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যে নেপালে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য দুটি সতর্কতা জারি করেছে। প্রথমটি, পরিস্থিতির উপর নজর রেখে সেখানে বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপদে থাকতে এবং দ্বিতীয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান। পরে, আরো একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জরুরি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের অশান্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘নেপালের হিংসা হৃদয়বিদারক। এত তরুণ প্রাণ হারিয়েছে, আমি মর্মাহত। নেপালের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং উন্নয়ন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নেপালের সকল ভাইবোনের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, সকলে শান্তিকে সমর্থন করুন।’
নেপালের অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে, ভারতের দূতাবাস কাঠমান্ডুর ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার করার জন্য নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এ পর্যন্ত ২২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৫০ জনেরও বেশি। সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল।
❤ Support Us






