Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বৈষয়িক
  • মার্চ ৯, ২০২৬

রেকর্ড পতনে ভারতীয় টাকার, ডলারের বিপরীতে বিনিময়দর মূল্য ৯২.৩৩। শেয়ার বাজারে পতন, একধাক্কায় ২০০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স, নিফটিও নিম্নগামী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রেকর্ড পতনে ভারতীয় টাকার, ডলারের বিপরীতে বিনিময়দর মূল্য ৯২.৩৩। শেয়ার বাজারে পতন, একধাক্কায় ২০০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স, নিফটিও নিম্নগামী

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ল ভারতীয় মুদ্রায়। সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনে, সোমবার ৯ মার্চ ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার বিনিময়দর তীব্রভাবে দুর্বল হয়ে রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে আসে। এদিন ডলারের তুলনায় টাকা ৫৯ পয়সা কমে ৯২.৩৩ স্তরে পৌঁছায়, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ০.৫০ শতাংশের বেশি পতন। এর আগে গত শুক্রবার টাকা -ডলার বিনিময়দর ছিল ৯১.৭৪। এদিকে সোমবার সকালে একধাক্কায় ২০০০ পয়েন্টের বেশি নেমে সেনসেক্স হয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯। পাল্লা দিয়ে পতন হয়েছে নিফটিরও।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়াই এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে। শুধু গত সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই এই মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছে।

ভারতের মতো বড়ো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের মোট তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচও বেড়ে যায় এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় টাকার উপর, যার ফলে মুদ্রার মান দুর্বল হয়ে পড়ে।

টাকার সাম্প্রতিক পতনের পেছনে আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন ভারতীয় শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করেন, তখন তারা রুপিকে ডলারে রূপান্তর করেন। এর ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায় এবং টাকার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, এবং সাধারণত মার্কিন ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতির অন্যান্য মুদ্রার মতো ভারতীয় টাকাও চাপের মুখে পড়ছে।

টাকা দুর্বল হলে ভারতের জন্য আমদানি করা পণ্য আরও বেশি দামে কিনতে হয়। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে এবং যেসব শিল্পক্ষেত্র আমদানির উপর নির্ভরশীল তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

তবে দুর্বল টাকার কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও ওষুধ শিল্পের মতো রফতানিমুখী অনেক সংস্থা তাদের আয়ের বড় অংশ ডলারে পায়। টাকা দুর্বল হলে ডলারে প্রাপ্ত সেই আয় ভারতীয় মুদ্রায় রূপান্তর করলে বেশি মূল্য পাওয়া যায়। ফলে এই ধরনের রফতানিমুখী সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে লাভবান হতে পারে।

এদিকে সোমবার সকালে একধাক্কায় ২০০০ পয়েন্টের বেশি নেমে সেনসেক্স হয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯। পাল্লা দিয়ে পতন হয়েছে নিফটিরও। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল পরিবহণের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ। এই অবস্থায় বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যার ব্যাপক প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ঝুঁকি তীব্রতর হওয়ায় বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। বিনিয়োগকারীদের এই মনোভাবই প্রতিফলিত হচ্ছে শেয়ার বাজারে।

সোমবার সকাল ৯টা বেজে ১৮ মিনিট অবধি সেনসেক্স পড়েছে ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট। এর ফলে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯ পয়েন্টে। অন্যদিকে ৬৪৭.৬০ পয়েন্টে পড়ে হয়েছে ২৩,৮০২.৮৫ পয়েন্ট। শেয়ার বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধের বাজারে সবচেয়ে বেশি করে রক্তাক্ত হয়েছে ব্য়াঙ্কিং, আইটি সেক্টর এবং ধাতব সংস্থার স্টকগুলি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!