- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫
অগ্নিদদ্ধ হোটেলের ৪ তলা থেকে ঝাঁপ, নেপালে সহিংসতার বলি গাজিয়াবাদের মহিলা পর্যটক
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে নেপাল। আর সেই রাজনৈতিক হিংসার আগুনে প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাগরিক। কাঠমান্ডুর এক হোটেলে তখন দাউদাউ আগুন, ৪ তলার ব্যালকনি থেকে প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা রাজেশদেবী গোলা-র। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর স্বামী, রামবীর সিংহ গোলা।
নিহতের পরিবার সূত্রে খবর, গত ৭ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু বেড়াতে গিয়েছিলেন রাজেশদেবী ও রামবীর সিংহ। গন্তব্য ছিল পশুপতিনাথ মন্দির। এক সপ্তাহ থাকার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু তার আগেই নেপালে মাথাচাড়া দেয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিও ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোটা নেপাল উত্তাল হয়ে ওঠে ‘জেনজি’ নামে তরুণদের আন্দোলনে। প্রচণ্ড বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে কাঠমান্ডু শহর জুড়ে। রাষ্ট্রপতি ভবন, সংসদ ভবন থেকে শুরু করে একাধিক সরকারি দফতরে চলে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। বাদ যায়নি হোটেলও। রাজেশদেবী ও রামবীর সিংহ উঠেছিলেন কাঠমান্ডুর হায়াত রিজেন্সি হোটেলে। ৯ সেপ্টেম্বর, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ, আচমকাই হোটেলে চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় নামজাদা এই হোটেলে। মুহূর্তে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। আতঙ্কে পর্যটকেরা যে যাঁর মতো আশ্রয় নিতে থাকেন।
নিহত মহিলার ছেলে বিশাল গোলা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘সেদিন পশুপতিনাথ দর্শন করে এসে বাবা-মা ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখনই হঠাৎ বিক্ষোভকারীরা হোটেলে ঢুকে পড়ে। আগুন লেগে যায় হোটেলের একাধিক তলায়। বাবা-মা চারতলায় আটকে পড়েন। সিঁড়ি দিয়ে নামার উপায় ছিল না। তাই মা ও বাবা বিছানার চাদর, শাড়ি জুড়ে দড়ির মতো কিছু বানিয়ে ব্যালকনি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন।’ শোকস্তব্ধ বিশালের কথায়, ‘মা প্রথমে নামছিলেন। দোতলা পর্যন্ত নামার পর হঠাৎ হাত ফস্কে যায়। সোজা নিচে পড়ে মাথায় মারাত্মক চোট পান। পরে সেনার একটি জিপ এসে দু-জনকেই উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। কিন্তু মা-কে আর বাঁচানো যায়নি।’ কাঠমান্ডুর হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলেই মাথার পিছনে গুরুতর আঘাত পান রাজেশদেবী। পরে হাসপাতালে নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। রামবীর সিংহ আপাতত কাঠমান্ডুর ‘টিচারস ইনস্টিটিউট মেডিক্যাল’-এ চিকিৎসাধীন।
মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত গাজিয়াবাদ। অতিরিক্ত জেলাশাসক সৌরভ ভট্ট জানিয়েছেন, ‘ওইদম্পতির খবর পাওয়ার পরই ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। মৃতদেহ দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনো মৃতদেহ কাঠমান্ডুর হাসপাতালে রয়ে গিয়েছে। ময়নাতদন্ত না-হওয়ায় দেরি হচ্ছে দেশে ফেরাতে। বিশাল বলেন, ‘আমরা দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলছি। সড়কপথে ভারতে ফেরার চেষ্টা করছি। কাল সকাল নাগাদ গাজিয়াবাদ পৌঁছতে পারব।’
প্রসোন্নগত, গত কয়েক মাস ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে নেপালের তরুণ প্রজন্ম। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন, অথচ দেশের সাধারণ মানুষ দুর্নীতির শিকার। এই ক্ষোভই ‘জেন জি আন্দোলন’-এ রূপ নেয়। সরকার প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তার জেরে বিক্ষোভ আরো জোরালো হয়ে ওঠে। এক সপ্তাহের মধ্যেই ৫১ জনের মৃত্যু, ১৩০০-র বেশি মানুষ আহত। সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে জনরোষ এতটাই চরমে ওঠে যে শেষমেশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি। কিন্তু তাতেও হিংসা থামেনি, রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের উপর চলছে লাগাতার আক্রমণ। হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী। বর্তমানে দেশটিতে সামরিক শাসন চলছে, দফায় দফায় জারি করা হয়েছে কারফিউ। এই মুহূর্তে সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতায় আন্দোলনকারীরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পথে। সর্বোচ্চ পদগুলিতে কে বসবেন তা নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি।
❤ Support Us







