- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫
নেপাল পালানোর ছক বানচাল! ভুয়ো ভারতীয় আধার কার্ড-সহ খড়িবাড়িতে ধৃত ইন্দোনেশিয়ান মহিলা
ভারতীয় পরিচয়পত্রে ভরসা করে দীর্ঘদিন মুম্বইয়ে বাস, তুরস্ক-নেপাল ঘুরে ফেরার ছক, সবই ফেঁসে গেল সীমান্তে। পানিট্যাঙ্কিতে ভারত-নেপাল সীমান্ত পেরোনোর মুখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধরা পড়লেন এক ইন্দোনেশিয়ান মহিলা। তাঁর কাছে মেলে ভুয়ো আধার কার্ড, প্যান কার্ড, এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ ভারতীয় ভিসাও। সব মিলিয়ে ফের উঠে এল দেশের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় শিলিগুড়ির খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কি এলাকায় ভারত-নেপাল সীমান্ত পার হওয়ার সময় ওই বিদেশিনীকে গ্রেফতার করে এসএসবি-র ৪৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের বর্ডার ইন্টারঅ্যাকশন টিম। প্রথমে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করলেও, আধার কার্ড খতিয়ে দেখেই সন্দেহ দানা বাঁধে বাহিনীর মধ্যে। পরে কড়া জেরা শুরু হতেই ফাঁস হয়ে যায় সব গোপন তথ্য। ধৃতের আসল নাম নি কাদেক সিসিয়ানি। তবে ভারতীয় নথিতে তাঁর নাম নিয়োমান মুরনি। জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের বরলিতে প্রায় এক দশক ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। সেখান থেকেই এক এজেন্টের মাধ্যমে তৈরি করিয়েছিলেন জাল আধার, প্যান ও ভোটার কার্ড। সেই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নির্দ্বিধায় ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকি, ঘুরেছেন তুরস্ক, নেপালও। এ ঘটনায় ফের দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উঠল বড়োসড়ো প্রশ্ন।
ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে ভারতীয় আধার কার্ড, প্যান কার্ড, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড, ভারতীয় ভিসা যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২২ জুলাই ২০২৫ এবং নেপালের পর্যটক ভিসা, যার বৈধতা ছিল ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়াও তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুটি পরিচয়পত্র, সে দুটিও ভিন্ন ভিন্ন নামের। একটিতে লেখা রয়েছে নি কাদেক সিসিয়ানি, অন্যটিতে নিয়োমান মুরনি। সূত্রের খবর, কিছু দিন আগেই ইন্দোনেশিয়া থেকে নেপালে আসেন ওই মহিলা। সেখান থেকে ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করে ভারতের বাগডোগরা হয়ে মুম্বইয়ে ফেরেন। এর পর ফের মুম্বই থেকে বাগডোগরা হয়ে নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু পানিট্যাঙ্কি সীমান্তেই ধরা পড়ে যায় সবকিছু।
জেরায় ধৃত জানিয়েছেন, মুম্বইয়ে এক দালালের হাত ধরে তিনি এই জাল নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এত দিন ধরে ভারতেই বসবাস করছিলেন, বা তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, শুধু অবৈধ অভিবাসন নয়, এর পেছনে থাকতে পারে বৃহত্তর কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের হাত। প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই উত্তরবঙ্গে ধরা পড়েছিল এক স্কুলকর্মী, যিনি সিপিএমের নেতা পরিচয়ে ভুয়ো আধার, ভোটার কার্ড, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র তৈরি করতেন। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল সরকারি দপ্তরের সিল, বিভিন্ন স্কুলের সার্টিফিকেট প্যাড, বিডিও অফিসের স্ট্যাম্প সহ বহু জাল নথি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বিদেশিনীর হাতে ভারতীয় পরিচয়পত্র উঠে আসায় নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা মহল।
এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও নজর দিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ধৃতকে বৃহস্পতিবার রাতেই খড়িবাড়ি থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার তাঁকে তোলা হয় শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে। তদন্তকারীরা এখন তাঁর মুম্বইয়ে থাকা, বিদেশযাত্রা, যোগাযোগ এবং পরিচয়পত্র তৈরির পর্ব ঘিরেই তথ্য জোগাড়ে ব্যস্ত।
❤ Support Us






